কলকাতা

যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ধুন্ধুমার! আধুনিকীকরণের স্বার্থেই পদক্ষেপ, তৃণমূলের ১৫ বছরের কাটমানির হিসেব চাইলেন শর্বরী

উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, বিশেষ করে যাদবপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।

Truth of Bengal: রেলওয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে যাদবপুর ও বাঘাযতীন স্টেশন দুটিকে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই দুই স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হকার উচ্ছেদ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে সিপিএম এবং বিষয়টি নিয়ে তারা স্রেফ রাজনীতি ও নাটক করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলকে তোলা বা টাকা দিয়ে সেখানে ব্যবসা করে আসছেন, তাঁদের এভাবে আর থাকতে দেওয়া হবে না। তবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, বিশেষ করে যাদবপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।

স্থানীয় বিজেপি বিধায়কের দাবি, হকারদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে তিনি নিজেই রেলের ডিআরএম-এর কাছে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে আটকানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, “যাদবপুর স্টেশন আধুনিক হবে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য সেখানে ঝাঁ-চকচকে ফুটব্রিজ তৈরি হবে। তবে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় যাঁরা হকারি করবেন, তাঁদের মধ্যে যাদবপুরের ১০টি ওয়ার্ডের মানুষই অগ্রাধিকার পাবেন। লক্ষ্মীকান্তপুর বা ক্যানিং থেকে হঠাৎ করে কেউ এসে এখানে বসে পড়লে তা মেনে নেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে প্রবীণ এই বিজেপি নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, বিগত দেড় দশকে যে সমস্ত হকাররা তৃণমূলকে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁরা যেন দ্রুত লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অন্যদিকে, এই হকার উচ্ছেদ রুখতে মঙ্গলবার রাত থেকেই ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বাম নেতৃত্ব। মঙ্গলবার রাতে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে বুলডোজার নিয়ে আসা হচ্ছে খবর পেয়েই বাম কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে বিক্ষোভ দেখান এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। বুধবার সন্ধ্যায় বাঘাযতীন স্টেশন সংলগ্ন এলাকার হকারদের সঙ্গে দেখা করে তিনি আশ্বাস দেন যে, যেকোনো মূল্যে এই উচ্ছেদ অভিযান ঠেকানো হবে। সৃজন জানান, ১৯৮৮ সালের একটি ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, বিকল্প কর্মসংস্থান বা বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে যাদবপুর ও বাঘাযতীন অঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা ঝুপড়িবাসীদের উচ্ছেদ করা বেআইনি।

সিপিএম-এর পক্ষ থেকে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সার্বিক আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সৃজন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, হকারদের আইনি সুরক্ষা দিতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদের মতো আইনজীবীরা। এছাড়া রেলের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সিপিএম সাংসদরা খোদ রেলমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে বামেদের এই তুমুল প্রতিবাদের জেরেই শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বুলডোজার। সব মিলিয়ে স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ এবং হকার উচ্ছেদ বিতর্ককে কেন্দ্র করে বর্তমানে যাদবপুর ও বাঘাযতীন চত্বর কার্যত রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

Related Articles