রাজ্যের খবর

‘চন্দননগরে যেতে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত’, প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারির পর বিস্ফোরক রচনা

তাঁর দাবি, একই দলের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত তাঁকে

Truth of Bengal: হুগলির সাংসদ তিনি। লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চন্দননগর। অথচ সেই চন্দননগরেই যেতে নাকি অনুমতি নিতে হত খোদ সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর এবার মুখ খুললেন রচনা। তাঁর দাবি, একই দলের সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত তাঁকে। এমনকী কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগে অনুমতি নেওয়ার কথা জানতেন দলের কর্মীরাই। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের গানের প্রশংসা করতে ভোলেননি অভিনেত্রী। চন্দননগর পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রচনা। বর্তমানে তিনি এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, রাজনীতিতে আসার পর এই প্রথম এমন কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ২০২৪ সালে সাংসদ হওয়ার পরও কেন চন্দননগরের কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাঁকে? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের প্রসঙ্গ টানেন রচনা।

তাঁর দাবি, তৃণমূলে থাকার সময় চন্দননগর বিধানসভা এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হলে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। এমনকী তাঁকে কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন ছিল। রচনা বলেন, “একই দলের সাংসদ থাকলেও ইন্দ্রনীলের সঙ্গে সেইভাবে কাজ করা হয়নি। ওঁর বিধানসভা এলাকায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হলে অনুমতি নিয়েই যেতে হত। এমনকী কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর আগে ইন্দ্রনীলের অনুমতি নিতে হত। দলের কর্মীরাই এ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন।” ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারি নিয়ে অবশ্য সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি রচনা। তিনি জানিয়েছেন, এখন তিনি অন্য দলের সাংসদ। তাই আগের দলের কোনও নেতাকে নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে ঠিক হবে না। আইনি বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে রাজনীতির বাইরে শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন স্পষ্ট। রচনার কথায়, গায়ক হিসেবে ইন্দ্রনীল যথেষ্ট ভালো ছিলেন এবং তাঁর বহু ক্যাসেট বিক্রি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর পুজোর ই-পাস সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হন তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বউবাজার থানায় ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং ভিআইপি পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে ট্রাভেল এজেন্ট জয়দীপ মুখোপাধ্যায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্ত করছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির পর রাজনৈতিক মহলে যখন চর্চা তুঙ্গে, তখন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। একই দলের সাংসদ হয়েও নিজের লোকসভা এলাকার বিধানসভায় যেতে অনুমতির প্রয়োজন পড়ত—এই অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

Related Articles