কল্পতরু বাজেটেও গলল না বরফ! দাবি পূরণ না হলে কাজের খতিয়ান বন্ধের হুঁশিয়ারি আশাকর্মীদের
শুক্রবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ১১ দফা দাবিতে সরব হন আশাকর্মীরা।
Truth Of Bengal: রাজ্য সরকারের কল্পতরু বাজেট ঘোষণা সত্ত্বেও আশাকর্মীরা খুশি নন। শুক্রবার ১১ দফা দাবিতে ফের পথে নামেন তাঁরা। স্বাস্থ্যভবনের সামনে জমায়েত করে ব্যারিকেডের মধ্যে আটকে দেয় পুলিশ। তবু বাধা অতিক্রম করে স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন আশাকর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, “ভাতা নয়, বেতন চাই। প্রতিনিধিদলকে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতেই হবে।”
সম্প্রতি আশাকর্মীরা আট দফা দাবিতে আন্দোলন করেছিল। তিলোত্তমা এলাকায় সেই আন্দোলন উত্তাল করে তুলেছিল রাজ্য রাজনীতি। এরপরই অন্তর্বর্তী বাজেটে আশাকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা করা হয়। মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা বাড়ানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৮০ দিন এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ—এসবের কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই ভাতাবৃদ্ধি আশাকর্মীদের ক্ষোভ দমন করতে পারেনি। তাঁদের মতে, “এগুলো ভাতা বাড়ানো, বেতন দেওয়া হয়নি।”
শুক্রবার আরও এক ধাপ এগিয়ে ১১ দফা দাবিতে সরব হন আশাকর্মীরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশাকর্মীরা স্বাস্থ্যভবন চত্বরে জমায়েত করে স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের কিছু আগে পুলিশ ব্যারিকেড করে তাদের আটকে দেয়। পুলিশ ও আশাকর্মীদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন।
আশাকর্মীরা বলেন, “আমরা ১০০০ টাকার জন্য আন্দোলন করিনি। আমরা বেতন চেয়েছি। ভাতা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, ওই হাজার টাকা আমরা ফেরত দিচ্ছি। সাধারণ মানুষ বাড়িতে বসে ৫০০ টাকা বাড়তি পাবে, আর আমরা পরিশ্রম করে বেতন পাব না?” এই আন্দোলনের নেত্রী ইসমাতারা খাতুন বলেন, “গতকালই জানিয়েছিলাম আমরা আজকের কর্মসূচি নেব। তারপরও লৌহকপাট বসানো হল কেন? আমরা মারপিট করতে আসিনি।”
আশাকর্মীরা আরও জানান, দাবি পূরণ না হলে ৩১ মার্চের মধ্যে যে সারাবছরের কাজের খতিয়ান জমা দিতে হয়, তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন। তাঁদের অবস্থান, এই লড়াইয়ের লক্ষ্য শুধু ভাতা নয়, স্থায়ী বেতন ও মর্যাদা পাওয়া—এটাই।



