কলকাতা

‘আমি কমিউনিস্ট-নাস্তিক নই, সনাতনী!’ কাঁথিতে বুকস্টল ভাঙচুর ও বামেদের বিরুদ্ধে হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর

বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Truth of Bengal: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুকস্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। কোথাও স্টল ভাঙচুর, কোথাও আবার আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি। সেই বিতর্কের আবহেই সোমবার কাঁথির নান্দনিক ক্লাবে পুজো দিতে গিয়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কেও কটাক্ষ করেন তিনি। কমিউনিস্ট ও বিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে সতর্কবার্তাও শোনা যায় তাঁর মুখে।সোমবার কাঁথির নান্দনিক ক্লাবে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পুজো শেষে তিনি জানান, দেবী দুর্গার কাছে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেছেন। পাশাপাশি উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেন তিনি। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সকলের সহযোগিতার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এর পরেই বামপন্থীদের নিশানা করে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। কপালে টিকা ও হাতে বাঁধা ডোর দেখিয়ে তিনি বলেন, তিনি কমিউনিস্ট, নাস্তিক বা জামাতি নন; তিনি হিন্দু পরিবারের সন্তান এবং সনাতনী। তাঁর বক্তব্য, প্রতি বছর দুর্গাপুজো করা তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আস্থার বিষয়। নান্দনিক ক্লাবে ৫৬ বছর ধরে পুজো হয়ে আসছে এবং তিনি নিজে প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বামপন্থীদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, কমিউনিস্টরা পুষ্পাঞ্জলি দেন না, চরণামৃত পান করেন না, হাতে ডোর বাঁধেন না কিংবা কপালে টিকা পরেন না। এই প্রসঙ্গেই তাঁদের থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি ‘আরশোলা’ ও ‘ছারপোকা’ বলে বিরোধীদের আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের মতো অস্থির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। এই ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার আহ্বানও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বামেদের বুকস্টল বিতর্ক অবশ্য দুর্গাপুজোর আগে থেকেই রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রে। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের আশপাশে বইয়ের স্টল বসান বামপন্থীরা। অভিযোগ, পুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্টলে ‘শারদোৎসব’-এর পরিবর্তে ‘দুর্গোৎসব’ লেখা না থাকলে পুজো কমিটিগুলি যেন সেই স্টল বসানোর অনুমতি না দেয়। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়। সিপিএমের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বামেদের বুকস্টলে হামলা চালাচ্ছেন। কোথাও ভাঙচুর, কোথাও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নিয়মের অজুহাতে পুলিশ বুকস্টল বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি বামেদের। যদিও এই অভিযোগগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত।

 

Related Articles