“রিল বানানোর নেশাই ডেকে আনল সর্বনাশ!” চোরবাগানের বিপর্যয় নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শিল্পীর
চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয় নিয়ে মুখ খুললেন পুজো মণ্ডপের শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল
Truth of Bengal: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া আলো-আঁধারির মায়াবী পরিবেশ আর স্বপ্নের মতো থিম দেখতেই উদ্বোধনের পর থেকে উপচে পড়েছিল মানুষের ঢল। রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে ভিন রাজ্য থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে। কিন্তু সেই আকর্ষণই যে শেষ পর্যন্ত এক মহাশোকের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ কল্পনা করতে পারেননি। মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপের একাংশ ভেঙে এবং অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবার পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন ওই মণ্ডপ ও প্রতিমার খ্যাতনামা শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল।
এদিন ঘটনার তীব্র দুঃখপ্রকাশ করে শিল্পী জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় মণ্ডপের রিল ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সেখানে মানুষের এমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁরা আগেই করেছিলেন। শিল্পীর কথায়, “মণ্ডপের ভিড় দেখে আমরা আগেই ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আশঙ্কা ছিলই যে কোনো একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিশেষ করে মানুষের মধ্যে রিল তৈরির যে অন্ধ নেশা তৈরি হয়েছিল, সেটাই এই ঠেলাঠেলির মূল কারণ।” তাঁর অভিযোগ, মণ্ডপের ভেতরে বারবার মাইকে ঘোষণা করা সত্ত্বেও দর্শনার্থীরা অতিরিক্ত সময় ধরে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও তুলছিলেন। এর ফলে বাইরে অপেক্ষাররত হাজার হাজার মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং শুরু হয় মারাত্মক ধাক্কাধাক্কি।
অনেকে এই দুর্ঘটনার জন্য মণ্ডপের ভেতরের আলো-আঁধারি পরিবেশকে দায়ী করলেও, সেই যুক্তি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন শিল্পী। তাঁর দাবি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অন্ধকারের ঝুঁকি কমাতে মণ্ডপের অন্ধকার জায়গাগুলিতে আগেই অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এত সতর্কতা ও আগাম প্রস্তুতির পরেও যে এমন একটি হৃদয়বিদারক বিপর্যয় ঘটে যাবে, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি শিল্পী সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।


