গোটা বাজেট বক্তৃতা বাংলায়, হঠাৎই কিছুটা অংশ ইংরেজিতে পড়লেন অর্থমন্ত্রী! কেন জানেন?
বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ তিনি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও অনুবাদ করে শোনান
Truth of Bengal: রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করে নজির তৈরি করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিজেপি সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী হিসেবে সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন তিনি। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, পুরো বাজেট বক্তৃতাই বাংলায় রাখেন রাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী। তবে বাজেটের একটি নির্দিষ্ট অংশ তিনি বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও অনুবাদ করে শোনান। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, উত্তরের ঋণ শোধ করবে বিজেপি সরকার। সেই রাজনৈতিক বার্তার প্রতিফলন দেখা গেল প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেও। উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে একাধিক বড় ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। স্বাস্থ্য, পরিবহণ, বিমান যোগাযোগ এবং চা বাগান—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য নতুন দুটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিলিগুড়িতে মেট্রো পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথাও জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গে নতুন বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণাও করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে পাহাড়, ডুয়ার্স এবং সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চা বাগান নিয়েও বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে চা পর্যটন নীতিতে চা বাগানের মোট ৩০ শতাংশ জমি শিল্প বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই নীতির বিরোধিতা করেছিলেন চা শ্রমিকদের একাংশ। পরিবেশ, চা বাগানের সংস্কৃতি এবং শ্রমিকদের স্বার্থের প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন মহল থেকেও আপত্তি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার চা বাগানের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সীমা কমানোর প্রস্তাব রেখেছে। বাজেট বক্তৃতায় স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং চা বাগান এলাকার সংস্কৃতি বজায় রাখার স্বার্থে চা পর্যটন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজের জন্য চা বাগানের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিমাণ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।
এই অংশটিই বাংলায় পড়ার পর ইংরেজিতে অনুবাদ করে শোনান অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতার বাকি অংশ বাংলায় হলেও চা বাগান সংক্রান্ত ঘোষণাটি ইংরেজিতে বলার মধ্যে উত্তরবঙ্গের অবাঙালি জনগোষ্ঠী এবং চা শ্রমিকদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স এবং উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের বড় অংশে বহু ভাষাভাষী মানুষের বসবাস। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের আস্থা আরও বাড়াতেই বাজেটে এই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য থেকে যোগাযোগ, চা বাগান থেকে পরিবেশ—উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের দাবিগুলিকে সামনে রেখে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে আলাদা রূপরেখা দিল রাজ্য সরকার।






