কলকাতা

পুরভোটে প্রাক্তন কাউন্সিলরদের উপরই ‘ভরসা’! বিজেপি প্রার্থী হতে পারেন তৃণমূলের ২২ ‘বিদ্রোহী’

কলকাতা পুরভোটে তৃণমূলের ‘দাগহীন’ প্রাক্তন কাউন্সিলরদের পদ্ম চিহ্নে টিকিট দেওয়ার চিন্তাভাবনা বিজেপির

Truth of Bengal: দ্রুত নাগরিক চাহিদা মেটানো এবং পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা ও আলোর মতো নিত্যদিনের মৌলিক পৌর পরিষেবা সচল রাখতে কলকাতা পুরভোটে এক অভিনব কৌশল নিতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনসেবার সুনাম রয়েছে, এমন কিছু ‘দাগহীন’ অথচ অভিজ্ঞ প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির সূত্রে খবর, প্রাথমিক পর্বে উত্তর কলকাতার ৭ জন, দক্ষিণ কলকাতার ১২ জন এবং যাদবপুর-টালিগঞ্জ অঞ্চলের ৩ জন-সহ মোট ২২ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে শর্টলিস্ট করা হয়েছে। এই সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় বিদায়ী বোর্ডের অন্তত চারজন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ এবং তিনজন বরো চেয়ারম্যান রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি এই সংখ্যাটি বেড়ে ৩০ পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বর্তমান তৃণমূল শিবিরের তরফে পুরনো মুখ স্বপন সমাদ্দার, তপন দাশগুপ্ত, অনিতা কর মজুমদারের পাশাপাশি ছাত্র, যুব ও আইটি সেল থেকে একঝাঁক নতুন প্রার্থীকে ময়দানে নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে প্রাথমিক নীল নকশা তৈরি করলেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত কোনও প্রার্থীর সঙ্গেই সরাসরি চূড়ান্ত কথা বলা শুরু হয়নি। যদিও দলের পুরনো ও নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ আঁচ করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তৃণমূলের কাউকে রেয়াত করে টিকিট দেওয়া হবে না। একই সুরে নির্বাচনী কমিটির অন্যতম সদস্য বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারিও জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে প্রবীণ ও পুরনো কর্মীদের শত শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে পদ্ম প্রতীকে টিকিট পাওয়ার চাহিদা বর্তমানে আকাশছোঁয়া; শুধু কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্যই প্রায় ৩ হাজার বায়োডেটা জমা পড়েছে বিজেপি সদর দফতরে।

বিজেপি নেতৃত্ব হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে যে, রাজ্য পরিচালনা আর কলকাতা কর্পোরেশনের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা প্রদান দুটো সম্পূর্ণ পৃথক ক্ষেত্র। সজল ঘোষ, মীনা দেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা ও সন্তোষ পাঠকের মতো হাতে গোনা অভিজ্ঞ মুখ ছাড়া বাকি ২০৫টি ওয়ার্ডে পুরসভার অভিজ্ঞ প্রশাসনিক লোকের তীব্র অভাব রয়েছে দলটিতে। কোনও ওয়ার্ডে জল না থাকা বা ড্রেন উপচে নোংরা জল জমার মতো ক্ষোভ সঙ্গে সঙ্গে না মেটাতে পারলে তার আঁচ সরাসরি নবান্ন এবং পরবর্তী লোকসভা ভোটে পড়বে। ফলে এই ঘাটতি মেটাতে ও একই সঙ্গে বাঙালি প্রার্থীর সংখ্যা বাড়াতে তৃণমূলের দক্ষ প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দলে টানার সমীকরণ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই কৌশলগত সমীকরণে ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিদ্রোহী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায় ও সায়নী ঘোষের মারফত জমা পড়া নামগুলি নিয়ে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজপথে।

Related Articles