সামান্য পেটে ব্যথা নিয়ে ভর্তি, দেড় ঘণ্টার মধ্যেই মৃত নাবালক! রণক্ষেত্র কলকাতা মেডিক্যাল চত্বর
ভুল ইঞ্জেকশনেই কি মৃত্যু? জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মৃত শিশুর পরিজনেরা
Truth of Bengal: ভুল চিকিৎসার জেরে ১১ বছরের এক নাবালকের মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে তীব্র উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে উঠল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ চত্বর। মৃত শিশুর পরিজনদের চড়াও হওয়ার জেরে পুলিশ ও জনতার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও পালটা ধাওয়া করে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দুলের বাসিন্দা ১১ বছরের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র পবন যাদবের মামাবাড়ি কলেজ স্ট্রিটে। সেখানে বেড়াতে এসে হঠাৎই তার তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের লোকজনের দাবি, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ সম্পূর্ণ হেঁটে সুস্থ অবস্থায় ওই বালককে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে’ ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ সাড়ে ১১টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে শিশুটি মারা গিয়েছে। সামান্য পেটে ব্যথা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কী করে একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের জোরালো অভিযোগ, সম্পূর্ণ ভুল চিকিৎসার কারণেই মৃত্যু হয়েছে পবনের। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে ভর্তির সময়ে সেখানে কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, শুধুমাত্র জুনিয়র ডাক্তারেরাই চিকিৎসা চালিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, জুনিয়র চিকিৎসকরা ঘটনার পর মিথ্যা বলছেন বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিজনেরা। এক বিক্ষুব্ধ আত্মীয়ের কথায়, “আমাদের চোখের সামনে ছেলেটিকে তিনটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, অথচ এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানাচ্ছে যে দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে!”
এদিকে ভুল ইঞ্জেকশন প্রয়োগের এই গুরুতর অভিযোগ ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানিয়েছেন, পেটে ব্যথার উপসর্গ নিয়েই শিশু বিভাগে ওই রোগীকে আনা হয়েছিল এবং ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই শিশুটির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ায় তড়িঘড়ি সিপিআর (CPR) দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। অধ্যক্ষের আশ্বাস, পরিবারের পক্ষ থেকে ভুল ইঞ্জেকশনের যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, ছুটির দিনে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত সিনিয়র চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ভবনে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও গত শুক্রবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে ছুটির দিনগুলিতেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকতে হবে। তা সত্ত্বেও রবিবারের এই ঘটনায় ফের একবার কলকাতা মেডিক্যালে সেই পুরনো ছবিই ধরা পড়ায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিজনদের দাবি, পবনের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য দফতরকে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করতে হবে এবং ঘটনার সময়ে কেন কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না, তার স্পষ্ট জবাবদিহি করতে হবে।





