কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দির ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার আধার
Basu Science Temple in Kolkata is the abode of scientific research in India

Truth Of Bengal: কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থা কলকাতার বসু বিজ্ঞান মন্দির বা বোস ইন্সটিটিউটের ভারতের এক বিজ্ঞান অন্বেষণের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। বসু বিজ্ঞান মন্দির (বোস ইনস্টিটিউট) ভারতের প্রাচীনতম এবং অন্যতম প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি। ইনস্টিটিউটটি ১৯১৭ সালে ভারত-এ আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রাণপুরুষ আচার্য স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম কুড়ি বছর ধরে তার পরিচালক ছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু।
বাঙালির বিজ্ঞান অন্বেষণের সাফল্যের মুকুটে যোগ হল নয়া পালক। সেই বোস ইনস্টিটিউটের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের বিজ্ঞানী অভ্রজ্যোতি ঘোষ ও তাঁর নেতৃত্বে এক দল অভিনব এক বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে American Society for Microbiology এর mBio জার্নালে।
বোস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অভ্রজ্যোতি ঘোষ ও তাঁর দল প্রাচীন আণুবীক্ষণিক জীব আরকিয়া সম্পর্কে গোটা বিশ্বকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের খোঁজ দিয়েছেন। প্রাচীন আণুবীক্ষণিক জীব আরকিয়া নিজেদের টক্সিন-অ্যান্টিটক্সিন সিস্টেম (টিএ) এর সাহায্যে অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়াতেও বেঁচে থাকতে পারে। আর সেটা পারে বলেই এসব প্রাচীন আণুবীক্ষণিক জীব বহু প্রাচীন কাল থেকে আজো বহাল তবিয়তে পৃথিবীতে টিকে আছে। গ্রিক ভাষায় আরকিয়া শব্দের অর্থ বহু প্রাচীন।
ডাইনোসরের মত জীবও হারিয়ে গেছে এই পৃথিবী থেকে। কিন্তু তারও অনেক আগে তৈরি হওয়া আকিয়া নামে জীবটি আজও বেঁচে আছে কেবল নিজেকে সবরকম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য। প্রবল গরমের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে আরকিয়া। আর তা তারা পারে তাদের টক্সিন অ্যান্টিটক্সিন সিস্টেমের জন্য।
এই বাঙালি বিজ্ঞানীদের দলটি এস অ্যাসিডোক্যালডারিয়াস নামে আরও এক আণুবীক্ষণিক জীবের পরীক্ষা করেছে। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবেরা থাকে আগ্নেয়গিরি থেকে তৈরি উত্তপ্ত পুকুরে।
আরকিয়ার টক্সিন অ্যান্টিটক্সিন সিস্টেম নিয়ে গবেষণা চালান বোস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অভ্রজ্যোতি ঘোষ ও তাঁর দল। তাঁরা দেখেন আরকিয়ার মতো বহু ব্যাক্টেরিয়ার শরীরে থাকে টক্সিন অ্যান্টিটক্সিন সিস্টেম। তাদের বিবর্তন বা ইভোলিউশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই সিস্টেম। এই সিস্টেমই এসব মাইক্রোঅর্গানিজমকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। যেমন, বিজ্ঞানীরা এস অ্যাসিডোক্যালডারিয়াস নামে যে আণুবীক্ষণিক জীবের ওপর পরীক্ষা করেন তা থাকে আন্দামানের ব্যারেন দ্বীপের আগ্নেয়গিরি থেকে তৈরি উত্তপ্ত পুকুরে। এসব জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।





