মাইক বন্ধ হতেই ক্ষোভ! বিধানসভায় নজিরবিহীন কাণ্ড, মান ভাঙাতে মন্ত্রীর ঘরে ছুটলেন খোদ স্পিকার
সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে স্পিকারের নিজে কোনও মন্ত্রীর ঘরে গিয়ে আলোচনা করার ঘটনা কার্যত বিরল।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অষ্টদশ অধিবেশনের শেষ দিনে এক নজিরবিহীন টানাপড়েন প্রত্যক্ষ করল রাজ্য রাজনীতি। বাজেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল নিয়ে আলোচনার সময় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কক্ষত্যাগ এবং স্পিকারের তাঁর ঘরে গিয়ে মানভঞ্জনের চেষ্টায় গড়ায়। সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে স্পিকারের নিজে কোনও মন্ত্রীর ঘরে গিয়ে আলোচনা করার ঘটনা কার্যত বিরল।
ঘটনার সূত্রপাত আলোচনার সময় বরাদ্দ করা নিয়ে। জানা গিয়েছে, বক্তাদের তালিকায় প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল না। আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিশেষ অনুরোধে তাঁকে চার মিনিট সময় দেন স্পিকার। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, সময় শেষ হওয়ার মুখে সবুজ আলো এবং সময় পেরিয়ে গেলে লাল আলো জ্বালিয়ে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিষদীয়মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কথা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তড়িঘড়ি আলো জ্বলে ওঠে এবং মাইক বন্ধ হয়ে যায়, যা অত্যন্ত অভিজ্ঞ এই বিধায়ককে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অরূপ বিশ্বাস পুনরায় স্পিকারের কাছে বাড়তি সময়ের আর্জি জানালে স্পিকার কিছুটা কড়া সুরেই জানান যে, তাঁকে চাপ দেওয়া সম্ভব নয়। তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও তিনি সময় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এই বাদানুবাদের মাঝে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন যে, বিরোধীদের ক্ষেত্রেও অনেক সময় নিয়ম শিথিল করা হয়। স্পিকারের অনড় মনোভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এমনকি বিরতির সময় কার্যবিবরণী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও তিনি যোগ দেননি।
অচলাবস্থা কাটাতে অধিবেশনের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর খোদ স্পিকার পরিষদীয়মন্ত্রীর ঘরে পৌঁছে যান এবং বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে কথা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে দু’পক্ষের কেউই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। দিনের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণের সময়ও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না শোভনদেব বাবু। তাঁর এই অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে অরূপ বিশ্বাস জানান, অন্য একটি বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকার কারণেই তিনি থাকতে পারেননি। তবে বিধানসভার অভিজ্ঞ কর্মীদের ধারণা, দুই বর্ষীয়ান নেতার ব্যক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে।






