রাজ্যের খবর

অভিষেকের খাসতালুকের তৃণমূল পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়! আলমারির ভিতর ব্যাগে থরে থরে নগদ

ঘটনার সূত্রপাত শালবনির জমি দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে।

Truth of Bengal: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার বিপুল নগদ টাকা! একটি ব্যাগের ভিতর থেকে মিলল বান্ডিল বান্ডিল নোট। পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় একটি তৃণমূলের পার্টি অফিসে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের ভিতরে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা এল কোথা থেকে? কারই বা এই টাকা? আপাতত সেই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

ঘটনার সূত্রপাত শালবনির জমি দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে। এই মামলায় বেশ কিছুদিন আগেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। অভিযোগ, সরকারি জমি কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ডায়মন্ড হারবারের কালিতলা আশুতি থানাতেও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি তাঁর বিরুদ্ধে মাটি চুরির অভিযোগ আনেন। সেই মামলার তদন্তেই সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নেয় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, হেফাজতে নিয়ে সুমিত রায়কে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জেরায় পাওয়া কিছু তথ্যের সূত্র ধরেই বুধবার সকালে সরিষার ওই তৃণমূল পার্টি অফিসে পৌঁছন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি আলমারির মধ্যে একটি ব্যাগ নজরে আসে পুলিশের। ব্যাগটি খুলতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের! ভিতরে সাজানো ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। গুনে দেখা যায়, মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা রয়েছে সেখানে।

টাকার উৎস কী? উঠছে একাধিক প্রশ্ন

এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কেন একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসের আলমারিতে রাখা ছিল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথা থেকে এল এই টাকা? কার টাকা? কোনও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস সম্পর্কে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার জানিয়েছেন, কালিতলা আশুতি থানার একটি মামলায় সুমিত রায় বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি সূত্র পাওয়া যায়। সেই সূত্রের ভিত্তিতেই বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। টাকার উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিষেকের গড়ে টাকা উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা

ডায়মন্ড হারবারকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেই কেন্দ্রের তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে একসঙ্গে এত টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলেরই প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি ও কালো টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ালেই টাকার পাহাড়ের সন্ধান পাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ঋজু।

Related Articles