আন্তর্জাতিক

তেহরানে মিসাইল হানা, মধ্যপ্রাচ্যে উড়ান বন্ধ করল এয়ার ইন্ডিয়া-ইন্ডিগো

অন্যদিকে স্পাইসজেট দুবাইসহ সংলগ্ন অঞ্চলের উড়ান নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

Truth Of Bengal: শনিবার তেহরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবায়। উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সমস্ত উড়ান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা করেছে ভারতের তিন প্রধান বিমান সংস্থা— এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট। ইন্ডিগো জানিয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ থাকায় তাদের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্পাইসজেট দুবাইসহ সংলগ্ন অঞ্চলের উড়ান নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। এয়ার ইন্ডিয়াও স্পষ্ট করেছে যে, যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা পশ্চিম এশিয়ায় বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার সকালে ইরানে চালানো এই অভিযানকে ইজরায়েল ও আমেরিকা ‘সতর্কতামূলক’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, ইজরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। এদিকে এই সংঘাত নিয়ে এক বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌবাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের কড়া বার্তা, “ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র হাতে রাখতে দেওয়া হবে না। হয় আত্মসমর্পণ করুন, না হয় নিশ্চিত মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকুন।” একইসঙ্গে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষকে ‘স্বাধীনতার’ বার্তা দিয়ে বর্তমান জমানার অবসানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘অপারেশন সিংহগর্জন’। তাঁর দাবি, এই অপারেশন কেবল ইজরায়েল বা আমেরিকার সুরক্ষার জন্য নয়, বরং ইরানের সাধারণ মানুষকে খামেনেই জমানার দমন-পীড়ন থেকে মুক্ত করতেই চালানো হচ্ছে। তেহরানের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলকানি এবং দুই মহাশক্তির এমন রণংদেহি মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছেন এবং গোটা বিশ্ব এখন এক বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে।