রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার সামনে মাথা ঝোঁকাবে না ভারত, স্পষ্ট জানালেন জয়শঙ্কর
বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অত্যন্ত জটিল।
Truth Of Bengal: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং রুশ তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের দাবির মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy)-এর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এক অধিবেশনে তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত বরাবরই স্বাধীন বিদেশনীতিতে বিশ্বাসী এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ভারতের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর বিনিময়ে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু জয়শঙ্কর মিউনিখে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আমাদের স্বাধীন অবস্থানে অনড় থাকব কি না বা এমন সিদ্ধান্ত নেব কি না যা হয়তো অন্যদের পছন্দ হবে না—আপনার প্রশ্নের উত্তর যদি এটাই হয়, তবে বলব হ্যাঁ, তেমনটা ঘটতেই পারে।”
বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অত্যন্ত জটিল। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি অন্যান্য দেশের মতোই তেলের লভ্যতা, খরচ এবং ঝুঁকির বিষয়গুলো বিচার করেই আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর মতে, ইউরোপ বা অন্যান্য দেশ যেভাবে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক বিচার-বুদ্ধি কাজে লাগায়, ভারতও ঠিক তা-ই করছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের ওপর মার্কিন চাপ বেড়েছে বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাকে কার্যত নস্যাৎ করে জয়শঙ্কর মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের এই ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার নীতি কোনও বিশেষ দলের নয়, বরং এটি ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিবর্তনের অংশ।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রুশ তেল না কেনার শর্তেই তিনি ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-ও মিউনিখে দাবি করেন যে, ভারত অতিরিক্ত রুশ তেল না কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু ভারতের বিদেশমন্ত্রক বা জয়শঙ্কর কেউই সরাসরি তেল কেনা বন্ধের কথা স্বীকার করেননি। বরং জয়শঙ্কর বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে সমীকরণ পাল্টালেও ভারত কারও চাপে পড়ে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে না। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা মাথায় রেখে এবং দেশের সস্তা তেলের প্রয়োজন বুঝে ভারত তার নিজস্ব ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ চালিয়ে যাবে।



