ইরান নয়, ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কিনবে ভারত! ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
উল্লেখযোগ্য, পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে না, তবু ট্রাম্পের এই দাবিতে এখনও নয়াদিল্লি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
Truth Of Bengal: রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ইতিমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপও করেছেন তিনি। তবে গত কয়েকদিন ধরেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না। তার পরিবর্তে আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেলের নাম প্রস্তাব করেছে। এবার তিনি ইরানের তেলের বাজারেও মার্কিন দখল বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন—বলছেন, ইরানের বদলে ভারত এখন থেকে তেল কিনবে ভেনেজুয়েলার কাছ থেকেই। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য, পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে না, তবু ট্রাম্পের এই দাবিতে এখনও নয়াদিল্লি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ইরান থেকে তেল কেনার বিষয়ে মন্তব্য করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি শুধু ভারতকেই নয়, চিনকেও একইভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “চিন আসুক, স্বাগত জানাচ্ছি। আমি চাই তেল নিয়ে একটা চুক্তি করুক তারা।”
চিনের পরেই ভারতের নাম ওঠে ট্রাম্পের মুখে। তিনি দাবি করেন, “ভারতও আসছে। ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কিনবে তারা। আমরা ইতিমধ্যেই চুক্তির বিষয়ে একটা ধারণা করে ফেলেছি।” এরপর ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘সর্বোচ্চ কর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে অনুমতি দিয়েছেন। বহু দিন ধরেই ভেনেজুয়েলার তৈলভাণ্ডারের দিকে নজর রেখেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় আনার পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে অনেকটা এগোয়। ফলে ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারে এখন আমেরিকার প্রভাব অনেক বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে লাভ অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই ভারতসহ অন্যান্য দেশকে তেল কেনার জন্য চাপ দিচ্ছেন। কয়েক দিন আগে সংবাদসংস্থা রয়টার্স তিনটি সূত্রের উল্লেখ করে জানিয়েছিল, আমেরিকা ভারতকে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে ভারত তেল কিনবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপ হয়। জ্বালানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোনালাপের পর মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, “আমরা সকল ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারি আরও গভীর এবং সম্প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছি। আগামী দিনে ভারত এবং ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছোবে।”
এদিকে এক সময় ভেনেজুয়েলার তেল কেনার কারণে ট্রাম্পের রোষের কবলে পড়তে হয়েছিল ভারতকে। ২০২৫ সালের মার্চে মাদুরোকে শাস্তি দিতে আমেরিকা তাদের ক্রেতা দেশগুলিকে চাপ দিয়েছিল। ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের অন্যতম কারণ ছিল সেটাই। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে—মাদুরো বর্তমানে আমেরিকার কারাগারে বন্দি। বিশ্বের বৃহত্তম তেলভাণ্ডার ভেনেজুয়েলার সম্পদ এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। তাই এবার আমেরিকা সেই তেল কেনার জন্য নয়াদিল্লির কাছে নানাভাবে প্রস্তাব তুলে ধরছে।






