আন্তর্জাতিক

H-1B Relief: ভারতীয়দের H-1B ভিসায় ১ লক্ষ ডলার অতিরিক্ত ফি লাগবে না!

সোমবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে

Truth of Bengal: দিওয়ালিতে ভারতীয়দের জন্য বড় স্বস্তির খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের এইচ-১বি ভিসার অতিরিক্ত ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) ফি দিতে হবে না। সোমবার মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেসব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বর্তমানে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকায় পড়াশোনা করছেন বা এল-১ কর্মী ভিসা নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের এইচ-১বি ভিসায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।

এছাড়া, যাঁদের ইতিমধ্যেই এইচ-১বি ভিসা রয়েছে এবং তাঁরা সেটি নবায়ন বা মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চান, তাঁদেরও এই বাড়তি ফি দিতে হবে না। এমনকি যারা বর্তমানে আমেরিকার বাইরে রয়েছেন কিন্তু আগে থেকেই বৈধ ভিসাধারী, তাঁদের পুনরায় দেশে প্রবেশের জন্যও কোনও অতিরিক্ত অর্থ লাগবে না।মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর পর যারা একেবারে নতুন করে এইচ-১বি ভিসার আবেদন করবেন এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই ১ লক্ষ ডলারের ফি প্রযোজ্য হবে।হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, এই ১ লক্ষ ডলারের ফি কেবলমাত্র এককালীন এবং নতুন ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।  যাঁদের ইতিমধ্যেই এইচ-১বি ভিসা রয়েছে এবং তাঁরা আমেরিকার বাইরে আছেন, তাঁদের দেশে ফেরার জন্যও কোনও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে না।ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণা মার্কিন মুলুকে থাকা হাজার হাজার ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত পেশাজীবীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। কারণ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের বড় অংশই ভারতীয় নাগরিক।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর আমেরিকার মোট অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়দের হাতে যায়। ২০২৪ সালে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে ভারতীয় পেশাজীবীরাই সর্বাধিক এইচ-১বি ভিসা পেয়েছেন। তুলনায়, চিনা নাগরিকরা পেয়েছেন মাত্র ১২ শতাংশেরও কম।গত সেপ্টেম্বরেই ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল যে নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ১ লক্ষ ডলার ফি দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তে মার্কিন নিয়োগকর্তা ও বিদেশি কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষত ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে— পড়ুয়া ও কর্মী— উভয় শ্রেণির মধ্যেই।অবশেষে নতুন নির্দেশিকা জারি করে সেই ধোঁয়াশা কাটাল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয়দের যেমন স্বস্তি মিলেছে, তেমনই টেক সেক্টরের নিয়োগকর্তারাও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

Related Articles