রেকর্ডের পর রেকর্ড! ১ লক্ষ ৪১ হাজারে সোনা, ২ লক্ষ ৬৩ হাজারে রুপো
এমসিএক্স সূচকে এদিন রুপোর দাম এক লাফে ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। প্রতি কেজি রুপোর দাম পূর্ববর্তী ২,৫২,৭২৫ টাকা থেকে ১০,১০৯ টাকা বেড়ে ২,৬২,৮৩৪ টাকায় বাজার খোলে।
Truth of Bengal: বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে সোমবার সোনা ও রুপোর দামে অভাবনীয় উল্লম্ফন দেখা গেল। আমেরিকার বিচার বিভাগ ফেডারেল রিজার্ভকে ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এবং ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দুই মূল্যবান ধাতুর দামই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সোমবার ভারতীয় বাজারেও তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। এমসিএক্স সূচকে এদিন রুপোর দাম এক লাফে ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। প্রতি কেজি রুপোর দাম পূর্ববর্তী ২,৫২,৭২৫ টাকা থেকে ১০,১০৯ টাকা বেড়ে ২,৬২,৮৩৪ টাকায় বাজার খোলে। দিনের সর্বোচ্চ স্তরে রুপোর দাম পৌঁছেছিল প্রতি কেজি ২,৬৩,৯৯৬ টাকায়। অন্যদিকে, সোনাও এদিন প্রায় ০.৫৬ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন শুরু করে। প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম পূর্ববর্তী ১,৩৮,৮১৯ টাকার তুলনায় বেড়ে ১,৩৯,৬০০ টাকায় স্থিত হয় এবং দিনের শেষে তা ১,৪১,২৫০ টাকার শিখর স্পর্শ করে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন গোল্ড ফিউচার ১.৮৮ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৪,৫৮৫.৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট গোল্ডের দাম ১.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৫৭৫.৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যদিও দিনের একটি সময়ে তা ৪,৬০১.১৭ ডলারের ঐতিহাসিক রেকর্ড উচ্চতা ছুঁয়ে ফেলে। রুপোর বাজারেও বড়সড় তেজি দেখা গিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির পর এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ৪.৮৫ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৮৩.১৯ ডলারে থিতু হয়। এর সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম পৌঁছেছে ৮৩.৮৮ ডলারে।
সোনা ও রুপোর এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারপারসন জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন যে, ফেড সদর দপ্তরের সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর জুন মাসের কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য নিয়ে বিচার বিভাগ গ্র্যান্ড জুরি সাবপোনা জারি করেছে। এই খবরের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দাপট গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। ছ’টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপক ‘ডলার ইনডেক্স’ ০.৩ শতাংশ কমে ৯৮.৮৯৯-এ নেমে আসায় টানা পাঁচ দিনের জয়যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি ইরানের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত লগ্নি হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে। একদিকে ফেড এবং বিচার বিভাগের সংঘাত আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—এই দুইয়ের জোড়া প্রভাবে সোমবার বিশ্বজুড়ে ধাতব বাজারে দামের এই রেকর্ড ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেল।




