ভোটার তালিকা সংশোধনে ‘গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ফের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর
রবর্তীতে যাচাই বা শুনানির পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখানো হচ্ছে।
Truth Of Bengal: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে ফের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সংশোধন প্রক্রিয়ার ফলে যোগ্য ভোটারদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়ছে এবং তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, SIR-এর আওতায় শুনানির সময়ে বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তীতে যাচাই বা শুনানির পর্যায়ে সেই নথিগুলিকে ‘পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ বলে দেখানো হচ্ছে। এর ভিত্তিতেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ডিজিটাইজ করতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুবাদ ও লিপ্যন্তরের সময় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক ও অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল হয়েছে। এর ফলেই বহু প্রকৃত ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ দেখিয়ে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনে ‘গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ফের চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর pic.twitter.com/AHEBkxgMcN
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) January 12, 2026
মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, গত ২৩ বছরে বহু ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে ও আধিকারিকদের শুনানির মাধ্যমে নিজেদের তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং সেগুলি বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন নিজেদেরই দীর্ঘদিনের আইনসম্মত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ভোটারদের আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বাধ্য করছে, যা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
এছাড়া নামের সামান্য বানানভেদ, বয়সের অল্প পার্থক্যের মতো বিষয় নিয়েও অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এসব ত্রুটি স্থানীয় স্তরে বি এল ও বা ই আর ও-দের মাধ্যমে সহজেই মেটানো সম্ভব হলেও তা না করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকাতেই বলা আছে যে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুধুমাত্র যাঁদের আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে সংযোগ পাওয়া যায় না, তাঁদের ক্ষেত্রেই শুনানি প্রয়োজন। অথচ বাস্তবে বহু ভোটার, যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র স্পষ্ট, তাঁদেরও নোটিস পাঠানো হচ্ছে।






