১৪০ কিমি বেগে ল্যান্ডফল করবে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! বাংলা কি তবে বড় বিপদের মুখে?
বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে গভীর নিম্নচাপ! সোমবারই কি জন্ম নিতে চলেছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’?
Truth of Bengal: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ইতিমধ্যেই শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং তা ক্রমশ স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উপকূলের কাছাকাছি আসার সময় এটি একটি নির্দিষ্ট বাঁক নেবে এবং তারপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি গভীর নিম্নচাপে রূপ নেবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রবল শক্তি বাড়িয়ে এটি এক ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করতে চলেছে। আর এই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম যে ‘অর্ণব’ হতে চলেছে, সে কথা আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যে, অর্ণবের চূড়ান্ত অভিমুখ কি শেষ মুহূর্তে বাংলার দিকে হবে এবং বাংলায় এর কতটা প্রভাব পড়বে? এই নিয়েই এখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা।
আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর এই মুহূর্তে গভীর নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। এটি ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার বেগে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি প্রথমে দক্ষিণ দিকে সরে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং তারপরেই ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে বাঁক নেবে। এই বাঁক নেওয়ার পথেই এটি সর্বোচ্চ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। আগামী সোমবার সকালেই বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর ক্রমশ আরও শক্তি বাড়িয়ে আগামী ২৭ অক্টোবর সকালে এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসার সময় আগামী ২৮ তারিখে অর্ণব উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়ে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এটি সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়েই এটি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সময় এর বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশাখাপত্তনমের কাছাকাছি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সময় ঝড়ের সাধারণ গতিবেগ ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া এবং বিজয়ওয়াড়ার মছলিপত্তনম অঞ্চলেই এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।





