ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য দ্বন্দ্বের অবসান? আলোচনায় অগ্রগতি
ট্রাম্প দাবী করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য এই ট্যারিফ।
Truth Of Bengal: রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চরম টানাপড়েনে পড়েছে। তবে শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার পথে রয়েছে, যার পর ট্যারিফ ৫০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে নেমে আসবে। এই তথ্য জানানো হয়েছে মিন্ট সংবাদমাধ্যমে, যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনজন শীর্ষ আধিকারিক।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্সির কুর্সিতে বসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন এবং তখন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও কয়েক মাসের আলোচনার পরও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এর পর আমেরিকা ভারতীয় পণ্যে দুই দফায় ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করে। ট্রাম্প দাবী করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য এই ট্যারিফ। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক শীর্ষ আধিকারিক, যার মধ্যে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও রয়েছেন, মনে করেন বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ার কারণেই এই ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে।
ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাত আমেরিকার জন্য খোলার ব্যাপারে আপত্তি জানায়। কারণ এই দুটি খাত দেশের বৃহৎ জনসংখ্যার জীবিকার প্রধান উৎস। আমেরিকা এই খাতে প্রবেশ করলে স্থানীয় কৃষক ও গবাদিপশু পালনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এই ইস্যুতে বাণিজ্য আলোচনায় দীর্ঘ সময় আটকে ছিল বিষয়টি।
সেপ্টেম্বরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল নেতৃত্বে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি এবং শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। মার্কিন পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও জানিয়েছে, মার্কিন ব্যবসায়িক নেতারা ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং দেশে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী।
তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা এখনও ভারত বন্ধ করেনি, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে জানিয়েছেন যে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনবে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেনি। মিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির শর্ত হিসেবে ভারত ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমাবে এবং আমেরিকা থেকে তেল কেনা শুরু করবে। তবে ভারতকে রাশিয়া থেকে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন তা মানবে কিনা, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।


