আন্তর্জাতিক

Britain’s Royal Family: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সব উপাধি কেড়ে নিলেন রাজা চার্লস, ছাড়তে হবে রাজপ্রাসাদও!

রাজপরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ কামরার বিশাল উইন্ডসর প্রাসাদও ছাড়তে হবে অ্যান্ড্রুকে।

Truth of Bengal: ফের আলোচনার শিরনামে ব্রিটেনের রাজপরিবার। যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের জেরে নিজের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সমস্ত রাজকীয় উপাধি, সম্মান এবং সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উইন্ডসরের রাজপ্রাসাদ খালি করে দিতে হবে তাঁকে।বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে শুক্রবার জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘রাজা প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্টাইল, উপাধি এবং সম্মান সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম হবে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর। ফলে ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’ খেতাবের অধিকারও হারাতে হল তাঁকে। রাজপরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ কামরার বিশাল উইন্ডসর প্রাসাদও ছাড়তে হবে অ্যান্ড্রুকে। তিনি এবং তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন আপাতত রাজা চার্লসের মালিকানাধীন সান্ড্রিংহাম এস্টেটে উঠবেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই বাসভবনের যাবতীয় খরচ বহন করবেন রাজা নিজেই।

৬৫ বছর বয়সি প্রিন্স অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। ভার্জিনিয়া গিফ্রে নামের এক মহিলার অভিযোগ, ১৭ বছর বয়সে অ্যান্ড্রুর হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন তিনি। পরে, ২০২২ সালে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি মেটানো হয়। তবে কত অর্থে নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানা যায়নি।যদিও অ্যান্ড্রু বারবার দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ এবং গিফ্রের সঙ্গে তাঁর কখনও দেখা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগের চাপ এবং রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় অবশেষে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন রাজা চার্লস।

রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাঁরা যে কোনও ধরনের নিগ্রহের শিকার, তাঁদের প্রতি রাজপরিবারের গভীর সমবেদনা রয়েছে। রাজা চার্লস এবং রানী ক্যামিলা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল ন্যায়ের প্রয়োজনে নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতার কারণেও জরুরি ছিল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজপরিবারের আরেক সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কল-কেও ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে এসে বর্তমানে তাঁরা ক্যালিফর্নিয়ায় বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে  রাজপরিবার থেকে কার্যত বিতাড়িত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়, তা সময়ই বলবে।

Related Articles