রাজ্যের খবর

‘রেজিনগর থেকে জিতিয়ে বিধানসভায় পাঠাতে পারি’, মমতাকে বড় প্রস্তাব হুমায়ুনের

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর কাছে আসেন, তবে নিজের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে রেজিনগর আসন থেকে ওনাকে জিতিয়ে পুনরায় বিধানসভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি। 

Truth of Bengal: গত বছরের শেষ লগ্নে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর একপ্রকার হুঙ্কার দিয়েই নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছিলেন রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সে সময় তিনি যতটা গর্জেছিলেন, নির্বাচনী ময়দানে কাজে ঠিক ততটা করে দেখাতে পারেননি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সত্যিই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে তৃণমূলকে, তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৮ বছরের সাজানো দল। এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের আবহে আচমকাই সুর নরম করে নিজের পুরনো নেত্রীর দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এক অদ্ভুত ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর কাছে আসেন, তবে নিজের বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে রেজিনগর আসন থেকে ওনাকে জিতিয়ে পুনরায় বিধানসভায় পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন তিনি।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস শুধু ক্ষমতাচ্যুতই হয়নি, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের গড় হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর আসনেই পরাস্ত হয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে দলের ‘সুপ্রিমো’র তকমাটুকু ছাড়া তাঁর হাতে সরকারি কোনো পদ বা ক্ষমতা নেই। এমনকি দলের সিংহভাগ বিধায়ক ‘নব্য তৃণমূল’ গঠন করায় পরিষদীয় দলের রাশও হারিয়েছেন তিনি। দলের প্রতীক চিহ্ন কিংবা দলীয় ফান্ড কতক্ষণ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়েই যখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে, ঠিক তখনই দলনেত্রীকে একপ্রকার ‘গুরুদক্ষিণা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন হুমায়ুন কবীর। বিধায়কের দাবি, তিনি মনে করলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার বিধানসভার অলিন্দে ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবে তার জন্য নেত্রীকে স্বয়ং তাঁর দ্বারে আসতে হবে।

নিজের এই বিতর্কিত এবং চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আবার নন্দীগ্রাম বা অন্য কোথাও থেকে দাঁড়ান, তবে তিনি কোনোভাবেই জিতে আসতে পারবেন না। কিন্তু তিনি যদি রেজিনগরে আসেন, তবে আমি ওনার জন্য নিজের আসন ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। আজ রাজ্যের অন্য কোথাও ওনার কথা কেউ না শুনলেও, রেজিনগরের মাটিতে হুমায়ুন কবীরই শেষ কথা এবং ওখান থেকে ওনাকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব আমার।” হুমায়ুন আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে দলনেত্রীর এই অসহায় এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা পরিস্থিতি দেখে তাঁর নিজেরও খারাপ লাগছে। আর সেই কারণেই একজন পুরনো সহকর্মী হিসেবে নিজের সাধ্যমতো নেত্রীর পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁকে আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে বিধানসভায় পাঠাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হুমায়ুনের এই মন্তব্য এখন মুর্শিদাবাদ তথা গোটা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Related Articles