পুজোর আগেই গঙ্গাঘাটের সৌন্দর্যায়ন, কলকাতা বন্দরে শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়ামের ঘোষণা শুভেন্দুর
দুর্গাপুজোর আগেই যাতে সাধারণ মানুষ নতুনভাবে সাজানো ঘাট ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে
Truth of Bengal: ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গাঘাট সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নিল রাজ্য। বাগবাজার-সহ কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘাটে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। পুজোর আগে সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাগবাজার, আহিরিটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট ও বান্দা ঘাটের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘাটের কাজ প্রায় শেষের পথে। বাকি ঘাটগুলির কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই যাতে সাধারণ মানুষ নতুনভাবে সাজানো ঘাট ব্যবহার করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঘাট সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ দেব ও মা সারদা দেবীর স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গঙ্গাতীরবর্তী স্থানগুলির ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেই সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি হলেও ঘাটগুলির পুরনো চরিত্র ও ঐতিহ্য যেন নষ্ট না হয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় জলপথে ২৫টি জেটি তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে সেগুলি পরিবহণ দপ্তরের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি পরিবহণ দপ্তর থেকে শিপিং বিভাগকে আলাদা করার বিষয়েও রাজ্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পরিবহণ ও শিপিং আলাদা দপ্তর হিসেবে কাজ করে। সেই মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও পৃথক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
এর পাশাপাশি কলকাতা বন্দরের উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে একটি মিউজিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মিউজিয়ামে পুরনো কলকাতার সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার তুলে ধরা হবে। কলকাতা বন্দর ও শহরের অতীতের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও সেখানে স্থান পাবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে মিউজিয়াম তৈরির সিদ্ধান্তকে ‘বড় পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। গঙ্গাঘাটের সংস্কার, নতুন জেটি নির্মাণ এবং মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নদীপথ, পর্যটন ও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

