দেশ

পাক সেনাকে ভারত আক্রমণের আহ্বান! নিষিদ্ধ সংগঠনের মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার মহিলা

ওই পোস্টগুলির মধ্যে উগ্রপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য, AQIS-এর সমর্থনে প্রচারমূলক ভিডিয়ো এবং ভারত-বিরোধী বার্তা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

Truth Of Bengal: চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা শামা পারভিন আনসারিকে গ্রেফতার করেছে গুজরাট অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। ২৯ জুলাই তাকে আটক করা হয় (Terror Propaganda)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের মতাদর্শ প্রচার করছিলেন।

এটিএস সূত্রে জানা গেছে, আনসারি দুটি ফেসবুক পেজ এবং একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। যার মাধ্যমে প্রায় ১০,০০০ অনুসারীর কাছে বিভিন্ন চরমপন্থী বার্তা ছড়ানো হতো। ওই পোস্টগুলির মধ্যে উগ্রপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য, AQIS-এর সমর্থনে প্রচারমূলক ভিডিয়ো এবং ভারত-বিরোধী বার্তা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

জানা গিয়েছে, গত ৭ মে ভারত সরকারের ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর পর আনসারি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের উদ্দেশে একটি সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। ৯ মে তারিখের সেই পোস্টে তিনি “Project Khilafat” নামক একটি ধারণার উল্লেখ করে হিন্দুত্ব ও জায়োনিজমের মতো মতাদর্শ প্রতিরোধের কথা বলেন (Terror Propaganda)।

এছাড়া, একাধিক পোস্টে তিনি ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশে থাকার কথা বলেছেন বা সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছেন। তিনি লাহোরের লাল মসজিদের ধর্মীয় নেতা আবদুল আজিজের ভিডিয়োও শেয়ার করেন, যেখানে ভারতে খেলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

একটি ভিডিয়ো-তে একজন AQIS নেতাকে ভারতীয় গণতন্ত্র ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংস বার্তা দিতে দেখা যায়, যেখানে “গজওয়া-ই-হিন্দ” মতাদর্শের উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব প্রচার হিংসা উসকে দিতে পারে।

এটিএস জানিয়েছে, আনসারির সঙ্গে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া আরও চারজনের সংযোগ রয়েছে। ওই চারজনকে বিভিন্ন রাজ্যে যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধেও অনুরূপ চরমপন্থী প্রচারের অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধেই ‘অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত সামগ্রীগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (Terror Propaganda)।

Related Articles