সরকারি চাকরিতে কি অধিকার আছে দত্তক পুত্রের? প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের ব্যাখ্যায় রেলের মামলার নিষ্পত্তি করল ওড়িশা হাইকোর্ট
আদালত এই মামলার প্রেক্ষিতে জানায় যে, দত্তক গ্রহণ হিন্দুদের একটি ব্যক্তিগত আইনের বিষয়।
Truth Of Bengal: ওড়িশা হাইকোর্ট সম্প্রতি হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের প্রাচীন দর্শন এবং আধুনিক রেলওয়ের চাকরির নিয়মের মধ্যে এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটাল। রেলওয়ের এক প্রয়াত কর্মচারীর দত্তক পুত্রের অনুকম্পামূলক নিয়োগ (Compassionate Appointment) সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেয়। বিচারপতি দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রীপাদ এবং বিচারপতি সিবো শংকর মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানাই যে, হিন্দুদের মধ্যে একটি সাধারণ বিশ্বাস রয়েছে— “অপুত্রক ব্যক্তির স্বর্গলাভ বা মোক্ষপ্রাপ্তি হয় না।” এই বিশ্বাস থেকেই প্রাচীন স্মৃতিশাস্ত্রকাররা সমাজে ‘দত্তক’ প্রথার প্রচলন করেছিলেন।
আদালত এই মামলার প্রেক্ষিতে জানায় যে, দত্তক গ্রহণ হিন্দুদের একটি ব্যক্তিগত আইনের বিষয়। সংশ্লিষ্ট রেল কর্মচারী ২০০৩ সালে ওই পুত্রকে দত্তক নিয়েছিলেন, যদিও দত্তকপত্রটি নিবন্ধিত (Registered) হয়েছিল ২০১০ সালে, তাঁর মৃত্যুর পর। রেল কর্তৃপক্ষ এই নিয়োগের বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছিল যে, কর্মচারীর মৃত্যুর আগেই দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আদালত এই যুক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে স্পষ্ট জানায় যে, মৃত্যুর অনেক পরে দত্তকপত্র নিবন্ধিত হওয়া কোনোভাবেই দত্তক প্রক্রিয়ার বৈধতাকে খুণ্ণ করে না।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৫৬ সালের ‘হিন্দু দত্তক ও রক্ষণাবেক্ষণ আইন’-এর মাধ্যমে সংসদ প্রাচীন শাস্ত্রীয় আইনে অনেক পরিবর্তন এনেছে। ২০১৩ সালের একটি সিভিল কোর্টের ডিক্রিও এই দত্তক প্রক্রিয়ার বৈধতা নিশ্চিত করেছিল, যার যথেষ্ট প্রমাণ্য মূল্য রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি কোনো সম্প্রদায়ের রীতিনীতি মেনে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে সেই সন্তান আইনত দত্তক গ্রহণকারীর পুত্র বা কন্যা হিসেবে স্বীকৃত হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (CAT)-এর ২০২৫ সালের জানুয়ারির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশই বহাল রাখে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ওই দত্তক পুত্রের অনুকম্পামূলক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ওড়িশা হাইকোর্ট।


