দেশ

অপশক্তির কাছে মাথা নত করেন না মমতা! বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাপুটে মেজাজে মুগ্ধ মেহবুবা

সম্প্রতি আইপ্যাক অফিসে ইডি-র তল্লাশির দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় অবস্থান আরও একবার তাঁর নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছে বলেই মত মেহবুবার।

Truth Of Bengal: পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় ঢালাও প্রশংসা করলেন। তাঁর কথায়, সংগ্রাম মমতার শিরা-উপশিরায় মিশে আছে। বিরোধী নেত্রী থেকে বাংলার মসনদে পৌঁছনোর পথটা তিনি দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেই তৈরি করেছেন। ‘অপশক্তি’র কাছে কখনও মাথানত করার মানুষ নন বলেই দাবি মেহবুবার।

সম্প্রতি আইপ্যাক অফিসে ইডি-র তল্লাশির দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় অবস্থান আরও একবার তাঁর নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছে বলেই মত মেহবুবার। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মমতা সত্যিই বাংলার ‘বাঘিনী’। তিনি সাহসী, লড়াই করতে জানেন এবং কখনও আত্মসমর্পণ করবেন না।

মেহবুবা মুফতির বক্তব্যে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে তল্লাশির ঘটনা বাড়ছে, যা আগে এই মাত্রায় দেখা যায়নি। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সেখানে লাগাতার তল্লাশি চলত, কিন্তু তখন অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নীরব ছিল। এমনকি তিনজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার হলেও সবাই মুখ বুজে তা দেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেহবুবার দাবি, এক সময় সংবাদপত্র খুললেই দিনে ২০-২৫টি তল্লাশির খবর দেখা যেত। এখন সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলায়। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাহসী নেত্রীই সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন বলেই তাঁর মত।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইডি ও সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বাংলাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। ভোটের আগে নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেই দাবি শাসকদলের।

আর কয়েক মাস পরেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ভোটমুখী রাজ্যে ইডি-র সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাককে লক্ষ্য করে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, দলের ভোট কৌশল ‘চুরি’ করতেই আইপ্যাককে টার্গেট করা হয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, আইপ্যাকের সল্টলেক অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তৃণমূলের দাবি, তল্লাশির নামে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের কাগজপত্র থাকা সবুজ ফাইল সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

যদিও ইডি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি কয়লা কাণ্ডের তদন্তের অঙ্গ হিসেবে রুটিন তল্লাশি ছিল। কোনও নথিপত্র ‘চুরি’ করা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছে ইডি।