দেশ

১০ বোনের বিয়ের দায়িত্ব এক ভাইয়ের কাঁধে! বাবার শেষ ইচ্ছেপূরণ করতে গিয়ে ৩৫ লাখের ঋণে ডুবল যুবক

বাবার শেষ ইচ্ছে বনাম কোটি টাকার ঋণ! ১০ বোনের বিয়ে দিতে নিজের ভবিষ্যৎ বাজি রাখলেন এক অভাগা ভাই

Truth of Bengal: ভারতীয় সমাজে পারিবারিক দায়িত্ব এবং বিয়ের রাজকীয় খরচ যে কতটা মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত ও হৃদয়বিদারক উদাহরণ এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। মুমূর্ষু বাবার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আবেগবশত দেওয়া এক প্রতিজ্ঞা আজ এক যুবকের কাঁধে কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। ১০ বোনের বিয়ের দায়িত্ব একা হাতে সামলানোর এই রুদ্ধশ্বাস ও করুণ কাহিনী এখন সমাজমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই যুবকের আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন অবাস্তব সামাজিক রীতির যৌক্তিকতা নিয়ে।

হাসপাতালের বিছানায় দেওয়া সেই কঠিন কথা

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটিতে ওই যুবক জানান, পর পর দশটি কন্যাসন্তানের জন্মের পর তাঁর বাবা একটি পুত্রসন্তানের আশা করেছিলেন। কিন্তু যুবকের বয়স যখন কম, তখনই তাঁর বাবা মারণরোগ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। মৃত্যুর ঠিক আগের দিনগুলিতে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাবা তাঁর একমাত্র ছেলের কাছ থেকে একটি কঠিন প্রতিশ্রুতি চেয়ে নেন। বাবা বলেন, আত্মীয়স্বজন বা অন্য কারও ওপর ভরসা না করে, ছেলে যেন একা হাতে ১০ বোনের ধুমধাম করে বিয়ে দেয়। কোনও কিছু না ভেবেই তখন বাবার হাত ছুঁয়ে ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছিলেন ওই তরুণ।

৩ বিয়েতেই ৩৫ লাখের দেনা, বাকি আরও ৭ বোন!

যুবকটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তিন বোনের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এই তিনটি বিয়ে দিতে গিয়েই সমাজ ও পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে তাঁর ঘাড়ে চেপেছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। এখানেই শেষ নয়, এখনও ৭ বোনের বিয়ে বাকি। বর্তমান বাজারের খরচ অনুযায়ী বাকি বোনদের বিয়ে দিতে আগামী দিনে আরও ২ থেকে ৩ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে তাঁর অনুমান।

ভিডিওতে এক গাল মলিন হাসি হেসে যুবকটি বলেন, “এই সব দেনা চুকিয়ে যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে নিজের বিয়ের কথা ভাবব। ততদিনে হয়তো আমার বয়স ৬০ বা ৭০ বছর হয়ে যাবে, আর আমার সন্তানরা হবে একদম কোলে শিশু!” যুবকের এই হাসিমুখের পেছনের যন্ত্রণা ছুঁয়ে গিয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে।

ঐতিহ্য বনাম বাস্তবতা: দ্বিধাবিভক্ত নেটদুনিয়া

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। একদল বলছেন, “আজকের যুগে এমন দায়িত্ববান ভাই মেলা ভার। এটাই প্রকৃত ভালবাসা।” অন্যদিকে বাস্তববাদীদের দাবি, “বাবার প্রতি ভালবাসা সুন্দর, কিন্তু এভাবে নিজের গোটা ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়ার কোনও মানে হয় না।” এই ঘটনাটি আরও একবার ভারতীয় সমাজে আভিজাত্য বজায় রাখতে গিয়ে রাজকীয় বিয়ের নামে বিপুল অর্থ অপচয় এবং মধ্যবিত্তের ওপর তৈরি হওয়া সামাজিক চাপকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। অনেকেই এখন পরামর্শ দিচ্ছেন, বড় আয়োজনের চেয়ে সাধারণ ও আইনি বিয়ে এবং সঠিক আর্থিক পরিকল্পনাই এই ধরণের ট্র্যাজেডি রুখতে পারে। তবে শত কষ্টের মধ্যেও যুবকটি তাঁর বাবার দেওয়া কথা রাখতে অনড়।

Related Articles