উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও বন্ধুত্বের হাত? ত্রিপুরার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দিতে চায় অসম!
শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, অসম সরকার বাংলাদেশকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী এবং সেই বিদ্যুৎ ত্রিপুরার মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে।
Truth of Bengal: ভারতে বাংলাদেশ-বিরোধী আবহ যখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে—ঠিক সেই সময়েই বিদ্যুৎ সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, অসম সরকার বাংলাদেশকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী এবং সেই বিদ্যুৎ ত্রিপুরার মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে। মানিক সাহা বলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অসমের কাছে বর্তমানে যে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রয়েছে, তা বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০১৬ সাল থেকেই ত্রিপুরা বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে। এই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক বা মউ-এর মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষ হচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে এই মউ-এর মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে গোমতী জেলার রাষ্ট্রায়ত্ত ওএনজিসি ত্রিপুরা পাওয়ার কোম্পানি (ওটিপিসি) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রথম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানো শুরু হয়। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর এক আধিকারিক এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, চাহিদার ভিত্তিতে অনেক সময় এই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ১৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
ওই আধিকারিক আরও জানান, ২০১৬ সালের প্রথম চুক্তির পর দু’বার সমঝোতা নবীকরণ করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়। এই বিদ্যুৎ সহযোগিতা সংক্রান্ত আলোচনা এমন এক সময় সামনে এল, যখন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার দু’দিনের সফরে ত্রিপুরায় পৌঁছান। সফরের প্রথম দিন তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন। সেই বৈঠকে দুই রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক সাহা আরও জানান, অসম ও ত্রিপুরাকে সংযুক্তকারী জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়টিও তিনি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দুই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।


