কলকাতা

তারকা সমারোহে জমজমাট ইডেন! মহালয়ার মেগা ইভেন্টে উৎসবের জোয়ার তিলোত্তমায়

শনিবার বিকেল থেকেই উৎসবের রঙে ভেসে গেল কলকাতা

Truth of Bengal: এবারের মহালয়া যেন একেবারে অন্য আবহে। রাজ্যের নতুন সরকারের উদ্যোগে শনিবার বিকেল থেকেই উৎসবের রঙে ভেসে গেল কলকাতা। ঢাকের বোল, আদিবাসী নৃত্য এবং লগ্নজিতা চক্রবর্তীর গানের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় ইডেন গার্ডেন্সের মেগা অনুষ্ঠান। একে একে সেখানে পৌঁছে যান জুন মালিয়া, স্বপন দাশগুপ্ত, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। লাল শাড়িতে সেজে অনুষ্ঠানে হাজির হন সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীও। অন্যদিকে রেড রোড থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ইডেনের উদ্দেশে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রথমে খোলা জিপে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল আর এন রবির ইডেনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রেড রোড থেকে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন শুভেন্দু।

শোভাযাত্রার পথজুড়ে বাংলার ২৩ জেলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ঝলক তুলে ধরা হয়। কোথাও লোকনৃত্য, কোথাও আঞ্চলিক গান, কোথাও আবার স্থানীয় শিল্পকলার প্রদর্শন—সব মিলিয়ে রেড রোড যেন হয়ে ওঠে গোটা বাংলার সাংস্কৃতিক মানচিত্র।ইডেনেও থাকছে একের পর এক চমক। অত্যাধুনিক ড্রোন শো এবং থ্রি-ডি প্রজেকশন ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে দেবী দুর্গার আবাহন ও বাংলার দুর্গাপুজোর নানা পর্ব। শুধু কলকাতায় নয়, এই অনুষ্ঠান প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারেও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে খবর।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও থাকছে তারকাদের ভিড়। শান, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র সংগীত পরিবেশন করবেন। মঞ্চে থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার। পাশাপাশি শান্তনু মৈত্র ও তাঁর দল এবং যন্ত্রসঙ্গীতে দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ একাধিক শিল্পী অংশ নেবেন। গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের সাজে মুড়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ গঙ্গা আরতির আয়োজনও রয়েছে। মেগা অনুষ্ঠানের কারণে শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থাতেও বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। স্ট্র্যান্ড রোড ও সেন্ট জর্জেস গেট রোডে রাজা উডমন্ট স্ট্রিট থেকে হেস্টিংস ক্রসিং পর্যন্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।

Related Articles