রাহুলের ‘সারপ্রাইজ’ আন্দোলনে জেরবার পুলিশ, উৎসবের মরশুমে দিল্লির নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ২৭ হাজার আধাসেনা
জল্পনা বাড়িয়ে সাসপেন্সে রাখছেন রাহুল গান্ধী! উৎসবের মরশুমে রাজধানীর নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের
Truth of Bengal: কখনও সটান যন্তর মন্তরে হাজির হওয়া, কখনও থানার সামনে ধরনা দেওয়া, আবার কখনও নির্বাচন কমিশন অভিযানের নামে আকাশবাণী ভবনের সামনে বসে পড়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনে প্রতিদিন নিত্যনতুন চমক আনছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই আকস্মিক ও ‘সারপ্রাইজ’ রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে বারবারই বিপাকে পড়তে হচ্ছে দিল্লি পুলিশকে। বিরোধীদের এই কৌশলগত চমকের কারণে নিরাপত্তায় সামান্যতম খামতিও রাখতে নারাজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পর ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী আন্দোলন আগামী দিনে কোন রূপ নেবে, সে বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ আপাতত ‘সাসপেন্স’ বা গোপনেই রাখা হচ্ছে। কংগ্রেস বা বিরোধী জোট ঠিক কখন কোন পথে আকস্মিক আন্দোলন শুরু করবে, তা আগে থেকে আঁচ করা সম্ভব নয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বজ্র আঁটুনি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। রাজধানীর নিরাপত্তা একচুলও শিথিল করতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ। উৎসবের মরশুম ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ২৭ হাজার আধা সেনা জওয়ান মোতায়েন করার যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা তৎক্ষণাৎ মঞ্জুর করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
সূত্রের খবর, গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের দিন দিল্লিকে যেভাবে দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া হয়েছিল, সেই একই কড়া বন্দোবস্ত বজায় রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী রাজধানীজুড়ে পাহারায় রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ হাজার একাধিক আধা সেনার জওয়ান এবং বাকিরা দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ফোর্স। এই বিশাল বাহিনী আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে। পুজো ও উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের জনজীবন যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে প্রশাসন।
যদিও রাজনৈতিক মহলের খবর, নবরাত্রি চলাকালীন রাজধানীতে আপাতত বড় ধরনের কোনও জমায়েত বা মেগা বিক্ষোভ না করার কথা ভাবছে ইন্ডিয়া জোট। সম্প্রতি রাহুলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত চা-চক্র বৈঠকেও নাকি সেই ইঙ্গিত মিলেছে। তবে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লড়াই থামছে না। আগামী দিনে প্রতিবাদের ধরনে আরও নতুনত্ব আসবে। আর সেই আগাম আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজধানীর প্রতিটি কোণায় নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।






