২৫০ কোটির রাসায়নিক ঘিয়ে তৈরি তিরুপতির প্রসাদ! সিবিআই চার্জশিটে হাড়হিম তথ্য
ঘি তৈরির প্রধান উপাদান দুধ বা মাখন ছাড়াই রাসায়নিকের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল এই ঘি-সদৃশ পদার্থ
Truth of Bengal: তিরুপতি মন্দিরের প্রসাদী লাড্ডুতে ব্যবহৃত ঘি নিয়ে চলা দীর্ঘ বিতর্কে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সম্প্রতি নেলোরের দুর্নীতি দমন আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, গত তিন বছরে মন্দিরে প্রায় ৬৮ লক্ষ কেজি ভেজাল ঘি সরবরাহ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই বিশাল পরিমাণ ঘি দিয়ে তৈরি লাড্ডুই প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সিবিআইয়ের দাখিল করা এই চার্জশিটে মোট ৩৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় মন্দির পরিচালনা কমিটির ৯ জন প্রভাবশালী সদস্য এবং ৫ জন দুগ্ধ বিশেষজ্ঞের নাম রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘি মন্দিরে ঢোকানো হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘি তৈরির প্রধান উপাদান দুধ বা মাখন ছাড়াই রাসায়নিকের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছিল এই ঘি-সদৃশ পদার্থ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ডের যে ডেয়ারি থেকে এই ঘি আসত, তারা গত তিন বছরে এক ফোঁটাও দুধ বা মাখন কেনেনি। পরিবর্তে তারা বিপুল পরিমাণে পাম তেল, পাম কার্নেল এবং নানাবিধ রাসায়নিক সংগ্রহ করেছিল। ঘিয়ের সঠিক স্বাদ ও গন্ধ আনতে দিল্লির এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মনোডাইগ্লিসারাইড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড এস্টার ও ভোজ্য সুগন্ধি মেশানো হত। এমনকি যে ট্যাঙ্কারে করে এই ঘি আসত, সেগুলিতে পশুচর্বির অস্তিত্ব মিলেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের পরীক্ষায় এই ভেজাল ঘিয়ের গুণমান সূচক বা এস-ভ্যালু পাওয়া গিয়েছে মাত্র ১৯.৭২, যেখানে মানদণ্ড অনুযায়ী এটি অন্তত ৯৮ হওয়া উচিত ছিল। সিবিআইয়ের অভিযোগ, মন্দির পরিচালনা কমিটির শীর্ষকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সব জেনেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতিতে মদত দিয়েছিলেন। উদ্ভিজ্জ চর্বি বা পাম তেলের উপস্থিতির প্রমাণ লোপাট করতে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
২০২৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু প্রথম এই অভিযোগ তুলেছিলেন যে জগন্মোহন রেড্ডির সরকারের আমলে প্রসাদী লাড্ডুতে পশুর চর্বি মেশানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্ত শুরু করার পর সিবিআই এখন এই বিশাল দুর্নীতির জাল উন্মোচন করল। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর মন্দির কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা এবং ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।




