দেশ

টাটা মহাকাশ, দীর্ঘ ৯ মাস পরে ঘরে ফেরার পথে সুনীতারা

Tata Space, Sunitara on her way home after 9 long months

Truth Of Bengal: যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরছেন। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) আটকে রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি মিশন পাঠিয়েছে নাসা ও ধনকুবের এলন মাস্কের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। নাসা ও স্পেসএক্সের এই মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রু-১০’।

এই মিশনে নতুন চার মহাকাশচারীকে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আইএসএসে পৌঁছেছেন। এবার সুনীতা ও বুচের পৃথিবীতে ফেরার পালা। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) আটকে থাকা নাসার মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোরকে বহনকারী স্পেসএক্স ক্যাপসুল পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

বুধবার ভারতীয় সময় ভোর ৩:২৭ মিনিটে সুনিতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। মঙ্গলবার সকালে সুনীতা উইলিয়ামস এবং আরও তিনজন মহাকাশচারীকে আইএসএস থেকে আনডক করা হয়েছে। মহাকাশচারীদের এই যাত্রায় ১৭ ঘণ্টা সময় লাগবে। তাঁরা ফ্লোরিডার উপকূলে অবতরণ করবেন।

দু’জন গত বছরের জুন মাস থেকে আইএসএসে রয়েছেন। আট দিনের মহাকাশ মিশনে সেখানে যান তাঁরা। কিন্তু বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে ত্রুটির কারণে তাঁরা আটকে পড়েন। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা নিয়ে বেশ আগ্রহী সুনীতা ও বুচ। এই নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকেই তাঁরা ওই সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মহাকাশের কোন বিষয়টি তাঁর সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে? সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জবাব ছিল—‘সবকিছু’। সুনীতা বলেন, ‘এটা আমার ও বুচের তৃতীয়বারের মতো আইএসএস সফর ছিল। (আইএসএসের) বিভিন্ন অংশ একত্র করতে আমরা সহায়তা করেছি। এখান থেকে আমরা এটিকে বদলে যেতে দেখেছি। এখানে বসবাস করাটা আমাদের এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে—শুধু জানালার বাইরের দৃশ্যই নয়, সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হবে, সেটাও শিখিয়েছে। চলে যাওয়ার সময় আমি এই অনুপ্রেরণা ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলি হারাতে চাই না। তাই যেভাবে হোক, আমি এগুলি স্মৃতিতে রেখে দেব।’

মহাকাশ থেকে কবে নিজ ঠিকানায় ফিরতে পারবেন—সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে জানতেন না সুনীতা। এটাই তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল বলে জানান তিনি। সুনীতা বলেন, ‘আমরা এখানে রয়েছি। আমাদের একটি মিশন রয়েছে। প্রতিদিন যা যা করতে হয়, তা আমরা করি। সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি হল, আমরা কখন ফিরব, তা জানতে না পারাটা। ওই অনিশ্চয়তাগুলি হল সবচেয়ে কঠিন বিষয়।’

শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে একটি মহাকাশযান কেনেডি স্পেস সেন্টার ছেড়ে যায়। এই মিশনে রয়েছেন নাসার মহাকাশচারী অ্যান ম্যাকক্লেইন, নিকোল আয়েরস, জাপান মহাকাশ অনুসন্ধান সংস্থা জেএএক্সএর মহাকাশচারী তাকুইয়া ওনিশি ও রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমসের মহাকাশচারী কিরিল পেসকভ।

শুক্রবার পৃথিবী ছাড়ার এক দিন পর শনিবার রাত ১২টা ৪ মিনিটে স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানটি আন্তর্জাতিক স্টেশনে পৌঁছয়। তারপর যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও রাশিয়ার মহাকাশচারীরা আইএসএসে প্রবেশ করেন। কয়েকদিন তাঁরা সুনীতা ও বুচের কাছ থেকে আইএসএসের বিভিন্ন বিষয় শিখতে সেখানে অবস্থান করবেন। এরপর সুনীতা ও বুচ স্পেসএক্সের মহাকাশযানের ক্যাপসুলে প্রবেশ করবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন আইএসএসে অবস্থান করা আরও দুই মহাকাশচারী।

Related Articles