দেশ

কুইক কমার্সে বড় চমক সুইগির, এআই চ্যাটেই মিলবে ইন্সটামার্টের ৪০ হাজার পণ্য

এটি একটি ওপেন-সোর্স ফ্রেমওয়ার্ক, যা এআই সিস্টেমকে নিরাপদভাবে লাইভ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করে এবং সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়।

Truth of Bengal: মঙ্গলবার সুইগি জানিয়েছে, তারা কনভারসেশনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি খাবার অর্ডার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা এবং রেস্তরাঁয় টেবিল বুকিংয়ের সুবিধা চালু করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা ChatGPT, Claude বা Google Gemini–র মতো থার্ড-পার্টি এআই চ্যাট ইন্টারফেস থেকেই সুইগির পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন, আলাদা করে অ্যাপ খোলার প্রয়োজন হবে না। এই নতুন ব্যবস্থাটি পরিচালিত হচ্ছে Model Context Protocol বা MCP–এর মাধ্যমে। এটি একটি ওপেন-সোর্স ফ্রেমওয়ার্ক, যা এআই সিস্টেমকে নিরাপদভাবে লাইভ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করে এবং সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়। এই ইন্টিগ্রেশন সুইগির তিনটি মূল পরিষেবাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম Swiggy Food, কুইক কমার্স বিভাগ Instamart এবং রেস্তরাঁ রিজার্ভেশন পরিষেবা Dineout। সংস্থার দাবি, Instamart বিশ্বের প্রথম কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম যা MCP গ্রহণ করেছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক ভাষায় নির্দেশ দিয়েই ৪০ হাজারের বেশি পণ্যের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে নিতে ও কিনতে পারবেন।

এখন আর সুইগির অ্যাপে ঘুরে ঘুরে পণ্য খোঁজার দরকার নেই। ব্যবহারকারী চাইলে সরাসরি এআই চ্যাটে জানাতে পারবেন, যেমন কোনও নির্দিষ্ট রেসিপির জন্য কী কী উপকরণ দরকার, বা কোন রেস্তরাঁয় ভালো রেটিং পাওয়া খাবার অর্ডার করা যায়। এরপর এআই এজেন্টই পণ্য খোঁজা, তুলনা করা, কার্ট তৈরি, অফার প্রয়োগ, ঠিকানা নিশ্চিত করা এবং চেকআউট—সবকিছু একাই সম্পন্ন করবে। MCP–কে অনেকটা USB-C পোর্টের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, কারণ এটি এআই টুল এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের মধ্যে আলাদা করে জটিল ইন্টিগ্রেশনের প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। MCP সার্ভারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ও সুরক্ষিত টুলস উন্মুক্ত করায়, সুইগির মতো প্ল্যাটফর্মে এআই শুধু তথ্য দেওয়ার কাজেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সরাসরি লেনদেনও করতে পারছে। বাস্তবে এর অর্থ, একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীর হয়ে গোটা বাজারের তালিকা তৈরি করতে পারে, কুপন প্রয়োগ করতে পারে, অর্ডার দিয়ে ডেলিভারির স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারে। একইভাবে, রেস্তরাঁ খোঁজা, ফাঁকা সময় জানা এবং টেবিল বুকিং—সবই একটি কথোপকথনের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

প্রযুক্তি মহলে এই প্রবণতাকে ‘এজেন্টিক এআই’ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে সফটওয়্যার এজেন্টরা ব্যবহারকারীর হয়ে একাধিক ধাপের কাজ নিজে থেকেই সম্পন্ন করে। আগে যেসব কাজ অ্যাপের ভেতরে হাতে ধরে করতে হতো, সেগুলি এখন এআই–ই সামলাচ্ছে। সুইগির চিফ টেকনোলজি অফিসার মধুসূদন রাও জানান, কনভারসেশনাল কমার্সের লক্ষ্য হল দৈনন্দিন জীবনের সময়ের চাপ ও রুটিন সিদ্ধান্তের ঝামেলা কমানো। তাঁর কথায়, ব্যবহারকারী শুধু নিজের প্রয়োজন জানালেই হবে, বাকিটা কাজ সফটওয়্যার এজেন্টরাই করে দেবে। খাবার ডেলিভারি, কুইক কমার্স এবং ডাইনিং আউট—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে সংস্থা। সুইগি আরও জানিয়েছে, MCP ইন্টিগ্রেশন ভবিষ্যতে মিল প্ল্যানিং, বিশেষ ডায়েট অনুযায়ী কেনাকাটা, স্বাস্থ্যভিত্তিক তালিকা বা বিশেষ উপলক্ষের অর্ডারের মতো নতুন পরিষেবার পথ খুলে দেবে। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষায় প্রাইভেসি-ফার্স্ট নীতিও বজায় রাখা হবে।

ভারতে এখনো খুব অল্প কিছু সংস্থা এআই-নেটিভ কমার্সের পথে এগিয়েছে। BigBasket ইতিমধ্যেই ChatGPT–র মাধ্যমে ইউপিআই পেমেন্টসহ কেনাকাটার একটি পাইলট প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। JioMart হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চ্যাট-ভিত্তিক অর্ডার চালু করেছে। অন্যদিকে, Zomato এআই ব্যবহার করছে মূলত রেকমেন্ডেশন সিস্টেম এবং অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম পরিচালনার জন্য।

Related Articles