মোদি সরকারের ভেতরেই রাহুলের ২০০ চর? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতার!
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা
Truth of Bengal: মোদি সরকারের অন্দরমহলের খবর নাকি পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি বিরোধী শিবিরে! তাও আবার কোনও একজন বা দু’জনের মাধ্যমে নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, ইডি, সিবিআই থেকে শুরু করে বিদেশমন্ত্রক—বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছেন তাঁরা। যদিও এই দাবির সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি কংগ্রেস নেতা। সোমবার, ১২ অক্টোবর, রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল। ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটে অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তিনি। সেই সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে দাবি করেন, সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিক বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে প্রশাসনের ভিতরের নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন রাহুল।
শুধু সরকারি আধিকারিকদের সমর্থন নয়, পুলিশের একাংশও বিরোধীদের আন্দোলনকে সমর্থন করছেন বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ৫০ শতাংশ পুলিশকর্মী তাঁদের জানিয়েছেন, বিরোধীরা যে পথে আন্দোলন করছেন, তা সঠিক। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও নাকি দিয়েছেন তাঁরা। যদিও এই সংখ্যার পক্ষে কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি। রাহুলের দাবি, পুলিশ থেকে শুরু করে আইটিবিপি, সিআরপিএফের সদস্যদের মধ্যেও আন্দোলন নিয়ে সহানুভূতি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য অযোগ্য ও নকল নাম বাদ দেওয়া। সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আটক, নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। শনিবারের আন্দোলনে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আটকাতে রাজধানীকে কার্যত কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতার দাবি, প্রতিবাদ দমনের জন্য যত বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হবে, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের অবস্থান তত বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তায় কেন্দ্র চাইলে ২০ থেকে ৩০ হাজার পুলিশও নামাতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতেই এত আয়োজন করা হচ্ছে। রাহুলের আরও বক্তব্য, এই আন্দোলন হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১২ বছর ধরে জমতে থাকা অসন্তোষ ক্রমশ সংগঠিত প্রতিবাদের রূপ নিচ্ছে। তাই পুলিশি বাধা কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপে এই আন্দোলন থামবে না বলেই দাবি করেছেন তিনি। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মন্তব্য করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এই প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত হচ্ছে।





