দেশ

বিধানসভায় মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করলেন বিধায়ক পত্নী, ভাইরাল ভিডিয়ো

স্বামী-স্ত্রীর এমন সংসদীয় কথোপকথনের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

Truth Of Bengal: মেঘালয় বিধানসভায় মঙ্গলবার এক বিরল দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন বিধায়করা। বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমাকে সরাসরি সরকারি নীতি ও প্রকল্পের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করলেন তাঁরই স্ত্রী তথা গাম্বেগ্রে কেন্দ্রের বিধায়ক মেহতাব চান্ডি এ সাংমা। স্বামী-স্ত্রীর এমন সংসদীয় কথোপকথনের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

এদিন প্রশ্নোত্তর চলাকালীন বিধায়ক মেহতাব চান্ডি সাংমা ২০২২ সালে ক্যাবিনেট অনুমোদিত পশুচিকিৎসা কলেজ, দুটি মৎস্য চাষ কলেজ এবং একটি দুগ্ধ প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। প্রকল্পগুলো শুরু করতে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর জবাব তলব করেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের পশুচিকিৎসা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কর্মীদের ঘাটতি মেটাতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হলেও, বিধানসভার ভেতরে দুজনেই কড়াভাবে সংসদীয় নিয়ম মেনে চলেন। একে অপরের দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা না বলে, সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর স্পিকারের মাধ্যমে পেশ করেন তাঁরা। রাজনীতির আঙিনায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এই পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা জানান, মেঘালয়ের একটি বড় অংশের মানুষের জীবিকা পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। প্রকল্পের বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি জানান, জমি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল বা ‘ম্যানপাওয়ার’ পরিকল্পনার কারণেই ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরিতে কিছুটা সময় লেগেছে। একইসঙ্গে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক মহলের মতে, বিধানসভার ভেতরে এই ধরণের গঠনমূলক বিতর্ক গণতান্ত্রিক কাঠামোর শক্তিকেই তুলে ধরে।

Related Articles