দেশ

নামাজ পড়ায় শনিবার ওয়াড়া দুর্গে গোমূত্র দিয়ে শোধন মহারাষ্ট্রের বিজেপি সাংসদদের

পুলিশি তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি মেধা দাবি করেন যে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা, যা প্রতীক শিবাজীর হিন্দু স্বরাজের।

Truth Of Bengal: সম্প্রতি, মুসলমানদের ‘নমকহারাম’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন বেগুসারাই সাংসদ, তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গিরিরাজ সিং। তীব্র সমালোচনা হয়েছে চারিদিকে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আরও এক বিজেপি নেতা ঘটিয়ে বসলেন বিস্ফোরক কান্ড। তিনি মহারাষ্ট্রের গেরুয়া শিবিরের সাংসদ মেধা কুলকার্নি। কী করেছেন তিনি? শনিবার ওয়াড়া দুর্গে নামাজ পড়ায় তা গোমূত্র দিয়ে তিনি শুদ্ধ করেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি এক ভাইরাল ভিডিও নিয়ে। তাতে দেখা যায় যে কয়েকজন মহিলা নামাজ পড়ছেন শনিবার ওয়াড়া দুর্গে। বিষয়টি জনসম্মুখে আসতেই বিরোধিতা শুরু করে হিন্দু সংগঠনগুলি। রবিবার দুর্গের দিকে এক প্রতিবাদ মিছিল বেরোয়, যার নেতৃত্বে ছিল পতিত পবন সংগঠন। তাতে হিন্দুদের অন্য সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন। সেই মিছিলেই মেধা কুলকার্নি নেতৃত্ব দেন। যদিও তার আগে তিনি সমাজমাধ্যম থেকে একটি পোস্ট করেন, যাতে লেখা, “জাগরণ হয়েছে হিন্দুদের। বরদাস্ত হবে না নামাজ পড়া শনিবার ওয়াড়া দুর্গে।” তিনি পোস্টে মিছিলের ডাক দিয়ে লেখেন, “চলো শনিবার ওয়াড়া।”

সেখানে পৌছে তিনি তা শুদ্ধ করেন গোমূত্র দিয়ে এবং শিববন্দনাও পাঠ করেন। পুলিশি তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি মেধা দাবি করেন যে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা, যা প্রতীক শিবাজীর হিন্দু স্বরাজের। পাশাপাশি, তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে এটি মসজিদ নয় এবং বরদাস্ত করা হবে না যদি কেউ এখানে এসে নামাজ পড়েন। এর সঙ্গে তিনি এই যুক্তিও দেন যে এই দুর্গে যদি নামাজ পড়া হয়, তাহলে অনুমতি দিতে হবে তাজমহলেও আরতি করার।

যদিও ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা। মেধার এই কাজের বিরোধিতা করে মহারাষ্ট্র জাতীয় কংগ্রেসের নেতা সচীন সাওয়ান্ত বলেন, “পেশোয়া বাজি রাওয়ের স্ত্রী মস্তানিও মুসলিম ছিলেন এবং এই দুর্গেই থাকতেন। বাইরে দরগার হাওয়া তো ওনার নাকেও লেগেছে, তাহলে উনি কি শুদ্ধ করবেন নিজের নাকও?” বিরোধীদের মতে মেধা উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন ভোটারদের ভোটের আগে। কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে বিষয়টি নিয়ে সংসদে সরব হওয়া হবে। মেধার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করা উচিত বলে মনে করছে বিরোধীরা।