যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে কাশ্মীর, দান সোনা-রুপো
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের কাশ্মীরের শিয়া মুসলিমরা।
Truth Of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পড়তেই ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইজরায়েলের হামলায় ইরানের একাধিক শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণহানি, ঘরবাড়ি ধ্বংস, জীবিকা হারানো—সব মিলিয়ে চরম সঙ্কটে সাধারণ মানুষ, বিশেষত শিয়া সম্প্রদায়ের বহু পরিবার।
এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের কাশ্মীরের শিয়া মুসলিমরা। ইদ-উল-ফিতরের পর থেকেই বদগাম, বারামুল্লা-সহ একাধিক শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় শুরু হয়েছে ত্রাণ সংগ্রহ অভিযান। স্থানীয় যুবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ, গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করছেন।
শুধু নগদ অর্থ নয়, সোনা-রুপোর গয়না, তামার বাসন, এমনকি গবাদি পশুও দান করছেন সাধারণ মানুষ। বহু মহিলা তাঁদের ব্যক্তিগত গয়নাও তুলে দিচ্ছেন ত্রাণ তহবিলে। এই উদ্যোগে সমাজের সব স্তরের মানুষ সাড়া দিয়েছেন। শিশুরাও তাদের সঞ্চিত অর্থ ও ইদের উপহার দান করছে। বদগামের বিধায়ক মুনতাজির মেহদি এক মাসের বেতন ত্রাণ হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
ইরানে এই ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে। কাশ্মীরবাসীর এই উদ্যোগে আপ্লুত দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয়ে আমরা কাশ্মীরের মানুষের এই মানবিক সমর্থন ও সংহতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহমর্মিতা কখনও ভোলা যাবে না।
উল্লেখ্য, দূতাবাসের তরফে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত প্রকাশের পর থেকেই এই ত্রাণ সংগ্রহে গতি আসে। সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী সরকারি ত্রাণ সংস্থা ও দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। চলমান সংঘাতের আবহে কাশ্মীরের এই উদ্যোগ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষকরা।






