দেশ

আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ‘ধাক্কা’ ইডির! কবে হবে শুনানি?

রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের মামলা দায়ের করার কোনো আইনি অধিকার ইডির নেই।

Truth of Bengal: আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি ঘিরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল। মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করায় আদালত আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। সোমবারই এই মামলার প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালতে নিজেদের হলফনামা জমা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেখানে ইডির করা মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের মামলা দায়ের করার কোনো আইনি অধিকার ইডির নেই। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের পেশ করা হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে কোনো বাধা দেননি। তিনি যথাযথ অনুমতি নিয়েই দলীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতকে জানান যে, রাজ্যের দেওয়া হলফনামাটি খতিয়ে দেখে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য তাদের কিছু সময় প্রয়োজন। এই বিষয়ে আদালত রাজ্যের আইনজীবীদের মতামত জানতে চাইলে তাঁরা তাতে সম্মতি দেন। এর ফলেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি মহলে এখন টানটান উত্তেজনা কাজ করছে। গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের। সেই সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিয়ে আসেন এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান যে, ওই ফাইলগুলিতে দলের নির্বাচনী রণকৌশল সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে যা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল ইডি।

কেন্দ্রীয় সংস্থা অভিযোগ তোলে যে, মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাধা দিয়েছেন এবং এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন রাজ্যের পুলিশ ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা সহ একাধিক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইডি এবং সংস্থার তিন আধিকারিক সুপ্রিম কোর্টে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে উভয় পক্ষ তাদের সওয়াল-জবাব পেশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles