নিরাপত্তার স্বার্থে বড় পদক্ষেপ ভারতের! বাতিল তুরস্কের সেলেবি অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র
India's big step in the interest of security! Revokes security clearance of Turkey's Celebi Aviation

Truth Of Bengal: ভারত সরকার তুরস্কভিত্তিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা সেলেবি অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করল। পাকিস্তানের প্রতি তুরস্কের সমর্থনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে, তুরস্ক পাকিস্তানকে ড্রোন সহায়তা দিয়েছিল, যা ভারতের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সরকারের এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্কভিত্তিক সংস্থাটির নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তার স্বার্থে বড় পদক্ষেপ ভারতের! বাতিল তুরস্কের সেলেবি অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র pic.twitter.com/ZpLtzgHnTa
— TOB DIGITAL (@DigitalTob) May 15, 2025
সেলেবি অ্যাভিয়েশন হোল্ডিং-এর অধীনে পরিচালিত Çelebi Ground Handling India Pvt. Ltd. ভারতের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কার্গো পরিষেবা সরবরাহ করত। দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক বড় বিমানবন্দরে তারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলাত।
১৯৫৮ সালে তুরস্কে প্রতিষ্ঠিত সেলেবি ছিল দেশটির প্রথম বেসরকারি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা। বর্তমানে সংস্থাটির কার্যক্রম ছড়িয়ে রয়েছে তিনটি মহাদেশে, ছয়টি দেশে এবং প্রায় ৭০টি বিমানবন্দরে। বিশ্বব্যাপী ১৫,০০০-এরও বেশি কর্মচারী নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
ভারতে সেলেবির কার্যক্রম
ভারতে প্রবেশের পর সেলেবি দুটি পৃথক সংস্থা গঠন করে:
- Çelebi Airport Services India – গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনার জন্য
- Çelebi Delhi Cargo Terminal Management India – দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পরিষেবার দায়িত্বে
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা প্রদান এবং ভারতীয় বিমানবন্দর পরিকাঠামোকে উন্নততর করা। তবে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্থাটির কার্যক্রমকে আর নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করছে না ভারত সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি কোম্পানিকে ঘিরে নয়, বরং তুরস্কের প্রতি ভারতের কূটনৈতিক বার্তা। সরকার আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, তুরস্ক পাকিস্তানকে “সন্ত্রাসবাদ পোষক” রাষ্ট্র হিসেবে সমর্থন করলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্কও প্রভাবিত হতে পারে।
জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভারতের বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় রদবদলের ইঙ্গিত। তুরস্কের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






