India High Speed Rail: রেলের মহাপরিকল্পনা! আগামী ২০ বছরে দেশে তৈরি হবে ৭০০০ কিমি হাই-স্পিড রেল করিডর
এই সম্পূর্ণ প্রকল্পটি 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় নকশা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হবে
Truth of Bengal: দেশের ক্রমবর্ধমান গণপরিবহণের চাহিদা মেটাতে ভারতীয় রেল এক বিশাল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ৭০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হাই স্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং বড় শহরগুলিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নতুন করিডরগুলি শুধুমাত্র যাত্রীবাহী ট্রেনের জন্য তৈরি করা হবে। এই ট্র্যাকে ট্রেনগুলি যাতে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার থেকে ৩৫০ কিলোমিটার গতিবেগে চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এই সম্পূর্ণ প্রকল্পটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ এটি সম্পূর্ণ দেশীয় নকশা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর নির্ভর করে তৈরি করা হবে, যা দেশের শিল্পকে এক দারুণ সুযোগ এনে দেবে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব নতুন এই রেল পরিষেবাতে তিনটি বিষয়ের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন: যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং উন্নত পরিষেবা। তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই হাই স্পিড ট্রেনগুলি কোনো বুলেট ট্রেন নয়, বরং ভারতে তৈরি বন্দে ভারত ট্রেনের উন্নত সংস্করণ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারতে তৈরি এই ট্রেনের প্রযুক্তি বিশ্ববাজারেও সমাদৃত হবে। পাশাপাশি, নিম্নমানের উপকরণ সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। রেলমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন: আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশে বন্দে ভারত ৪.০ চালু হবে। এই নতুন ট্রেনে উন্নত শৌচাগার সহ একাধিক আধুনিক ফিচার থাকবে, যা যাত্রীদের এক বিলাসবহুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে।
হাইড্রোজেন ট্রেন বা হাই স্পিড ট্রেনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত বিদেশি নির্ভরতা এড়াতে চাইছে। রেলমন্ত্রী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের কোনো প্রযুক্তিই বাইরের কোনো দেশ থেকে আমদানি করা হবে না। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির উপর ভরসা রেখেই প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। নতুন এই করিডরগুলিতে উন্নত মানের সিগন্যালিং সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার থাকবে। দেশের প্রায় সমস্ত মেট্রো সিস্টেমে বর্তমানে যে অত্যাধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে চালকহীন ট্রেনও চালানো সম্ভব, ভারতীয় রেলও এবার সেই পথে হাঁটতে চলেছে। এর ফলে দুই ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমবে এবং যাত্রী নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত হবে।






