দেশ

নিরাপত্তা কেড়েছে মোদি সরকার, প্রাণ বাঁচাতে বন্দুকই ভরসা! বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ

প্রাণভয়ে কাঁপছেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার! সুরক্ষায় এবার খোদ সাংসদের হাতেই উঠল এয়ারগান!

Truth of Bengal: তিনি একাধারে ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি, অন্য দিকে ১৯৮৩ সালের দেশের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কান্ডারী। অথচ, ছাব্বিশের পটপরিবর্তনের পর আজ সেই বিশ্বজয়ী তারকা ক্রিকেটারেরই নাকি নিজের রাজ্যে কোনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই! এতটাই প্রাণভয়ে ভুগছেন যে, চব্বিশ ঘণ্টা নিজের আত্মরক্ষার জন্য সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন একটি আধুনিক ‘এয়ারগান’। তিনি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় প্রথম সারির টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া লাইভ সাক্ষাৎকারে খোদ নিজের কোলের ওপর ওই বন্দুক রেখে বসে থাকতে দেখা গেল তাঁকে, যা ঘিরে এই মুহূর্তে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

“গুন্ডা এলেই গুলি চালিয়ে দেব, প্র্যাকটিসও করছি”

সাক্ষাৎকার চলাকালীন ক্যামেরার সামনে কীর্তি আজাদের পাশে ওই এয়ারগান দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলেন সঞ্চালক। কেন একজন সাংসদ হয়ে তিনি এভাবে বন্দুক সঙ্গে রাখছেন? এর জবাবে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে কীর্তি আজাদ বিস্ফোরক দাবি করেন, “বিজেপি সরকার অত্যন্ত প্রতিহিংসামূলকভাবে আমার সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে নিজের সুরক্ষায় এই বন্দুক সঙ্গে রাখছি। শুধু তাই নয়, নিয়মিত লক্ষ্যভেদ বা বন্দুক চালানো প্র্যাকটিসও করছি। কোনও বিজেপির গুন্ডা যদি আমার সামনে এসে আক্রমণ করার চেষ্টা করে, আমি সোজা গুলি চালিয়ে দেব।” তবে পরক্ষণেই কিছুটা দার্শনিক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আমি নিজের জীবন নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। কার কবে যেতে হবে, সেটা তো ওপরওয়ালার ভাগ্যের লিখন।”

Congress leader Kirti Azad to join TMC | Politics - PTC News

ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরি থেকে এক ধাক্কায় শূন্যে কীর্তি

কোন সরকার তাঁর নিরাপত্তা কেড়ে নিল, কেন্দ্র নাকি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার? এই প্রশ্নের উত্তরে বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ সরাসরি আঙুল তুলেছেন মোদী সরকারের দিকে। কীর্তি আজাদের অভিযোগ, “আমি যখন বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম, তখনই আমার নিরাপত্তা এক ধাক্কায় কমিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপিতে থাকাকালীন আমি ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটেগরির হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা পেতাম। কিন্তু তৃণমূলের টিকিটে জেতার পর সেই নিরাপত্তারক্ষীদের তো সরানো হয়েইছে, এমনকি আমার দিল্লির ও স্থানীয় বাসভবনের হোমগার্ডগুলিকেও তুলে নেওয়া হয়েছে।”

Rome was not built in a day: Kirti Azad on TMC's electoral debacle in Goa

বঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ওপর আক্রমণের ছায়া

এখানেই শেষ নয়, কীর্তি আজাদের দাবি, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর থেকেই বেছে বেছে জোড়াফুলের সাংসদ ও নেতাদের ওপর রাজনৈতিক আক্রমণ চালানো হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ স্তরের তৃণমূল সাংসদদের নিরাপত্তায় ব্যাপক কাটছাঁট করা হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূল নেতাদের প্রকাশ্য রাস্তায় ‘ডিম থেরাপি’ (ডিম ছুড়ে মারা)-র নজিরবিহীন বিড়ম্বনার মুখেও পড়তে হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কীর্তি আজাদ মূলত দিল্লির বাসিন্দা হওয়ায় বাংলার মাটিতে তাঁর ওপর সরাসরি শারীরিক আক্রমণের আশঙ্কা অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু তা সত্ত্বেও একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন বিশ্বজয়ী খেলোয়াড় যেভাবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে বন্দুক নিয়ে ঘুরছেন, তা দেশের আইন-শৃঙ্খলা এবং সংসদীয় রাজনীতির অন্দরের এক কুৎসিত সমীকরণকে প্রকাশ্যে এনে দিল।

Related Articles