বিজেপি কর্মীদের হুমকি, ‘গ্রেফতারির ভয়ে’ আত্মসমর্পণ মালা রায় ও তাঁর পুত্রের
আইনি জট ও গ্রেফতারি এড়াতেই বুধবার সশরীরে আলিপুর আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মা ও ছেলে।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদল এবং বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো ও নতুন মামলাগুলিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই আবহে ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় বুধবার আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ মালা রায় এবং তাঁর ছেলে নির্বাণ রায়। আদালত শুনানির পর তাঁদের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। বিচারক দু’জনকেই ১ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মূলত টালিগঞ্জ থানা এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠে, যার জেরে এক দশক পর পর্যুদস্ত হয় তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, ফলাফল ঘোষণার রাতেই কলকাতার টালিগঞ্জ থানা এলাকায় ব্যাপক অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেন সাংসদ মালা রায় এবং তাঁর ছেলে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র হাতে হুমকি ও চড়াও হওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ অস্ত্র আইনে সাংসদ মালা রায়ের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে। আইনি জট ও গ্রেফতারি এড়াতেই বুধবার সশরীরে আলিপুর আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মা ও ছেলে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যজুড়ে যে নজিরবিহীন ভোট-পরবর্তী হিংসা চলেছিল, তার স্মৃতি এখনও রাজ্যবাসীর মনে দগদগে। সেবার ৩০০-র বেশি বিজেপি কর্মী খুন এবং বহু ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। তবে পাঁচ বছর পর, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে এবং মানুষ ঢেলে আশীর্বাদ করেছে পদ্ম শিবিরকে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে এবারের নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হলেও, ভোটের ফল প্রকাশের পর অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন প্রশাসন।
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেই নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, বিগত বছরগুলিতে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত ও নির্যাতিত কর্মীদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে তাঁর সরকার। সম্প্রতি ফলতায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, হিংসার বলি হওয়া বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। এই রাজনৈতিক আবহে কলকাতার দাপুটে তৃণমূল নেত্রী মালা রায়ের আদালতে আত্মসমর্পণ ও জামিন নেওয়ার ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





