দেশ

দিল্লির লাল কেল্লা ও চাঁদনি চকে জঙ্গি হামলার সতর্কতা, রাজধানীজুড়ে হাই-অ্যালার্ট

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা লাল কেল্লা এবং চাঁদনি চক সংলগ্ন জনবহুল এলাকা ও একটি বিখ্যাত মন্দিরকে লক্ষ্য করে আইইডি হামলার পরিকল্পনা করছে।

Truth Of Bengal: রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা লাল কেল্লা এবং চাঁদনি চক সংলগ্ন জনবহুল এলাকা ও একটি বিখ্যাত মন্দিরকে লক্ষ্য করে আইইডি (IED) হামলার পরিকল্পনা করছে।

গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে ৩১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই লস্কর-ই-তৈবা ভারতের রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছে। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়, জনাকীর্ণ বাজার এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চাঁদনি চক এলাকার মন্দিরগুলোতে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

এই সতর্কতা এমন এক সময়ে জারি করা হল, যখন মাত্র তিন মাস আগেই গত বছরের ১০ নভেম্বর লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ওই ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারান এবং ২৪ জন গুরুতর আহত হন। সেই বিস্ফোরণে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিকটস্থ অন্যান্য যানবাহনেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

তদন্তকারীদের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওমর মোহাম্মদ (ওরফে ওমর উন নবী), যিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক ছিলেন। একই দিনে দিল্লি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে ২৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও অন্যান্য বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

তদন্তে জানা গেছে, ওই জঙ্গি মডিউলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডঃ আদিল রাঠৌরকে গ্রেফতরের পর আতঙ্কিত হয়ে ওমর মোহাম্মদ লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণটি ঘটান। বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে দিল্লির প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন।