রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবি, কেন্দ্রকে চিঠি নবান্নের
এই অভিযোগ তুলে পঞ্চমবারের মতো স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।
Truth of Bengal: জাতীয় স্তরে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্যের দুই জনজাতি—রাজবংশী ও কুড়মিদের ভাষা যথাক্রমে রাজবংশী ও কুড়মালিকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হল নবান্ন। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে উপজাতিদের সারি ও সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করলেও তা কার্যকর হয়নি—এই অভিযোগ তুলে পঞ্চমবারের মতো স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের উদ্দেশে এই জোড়া চিঠি পাঠান রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী।নবান্ন সূত্রের খবর, অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি হলে ভাষাদ্বয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি মিলবে, যা শিক্ষা, সাহিত্যচর্চা ও প্রশাসনিক ব্যবহারে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
Letter from CS, WB to Union HS on recognition of Sari Dharam and Sarna Dharam…etc.
Letter on Inclusion of Rajbanshi and Kurmali Languages in 8th Schedule to the Constitution of India
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খন্ড,উরিষ্যা কুড়মি জনজাতির মানুষের বাস রয়েছে এবং তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশ কুড়মালি ভাষায় কথা বলেন। তবে বাংলার বাইরে অন্য কোনও রাজ্য এখনও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে তোলার প্রস্তাব আনেনি বলে দাবি প্রশাসনের।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে বড়সড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছে জঙ্গলমহলের কুড়মি সংগঠনগুলি ও রাজবংশী মহল। সম্প্রতি অজিত মাহাতোর নেতৃত্বাধীন আদিবাসী কুড়মি সমাজ এক কর্মসূচি থেকে জানায়, কেন্দ্র যদি কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তারা বিজেপির পাশে থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের এখতিয়ারভুক্ত হলেও ভোটের আগে প্রস্তাব পাঠানো রাজ্যের কৌশলগত পদক্ষেপ—যা জনজাতি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
উপজাতিদের সারি ও সারনা ধর্মের স্বীকৃতি প্রসঙ্গেও নবান্নের দাবি, দীর্ঘদিনের সুপারিশ সত্ত্বেও কেন্দ্র কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই পুনরায় স্মরণ করিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের আর্জি জানানো হয়েছে। এখন নজর কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়ার দিকে।


