কার্বাইড বন্দুক: দিল্লির এইমসে ভর্তি অন্তত ১৯০
তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি দীপাবলির রাতেই আক্রান্ত হন। অধিকাংশই দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার বাসিন্দা।
Truth Of Bengal: আলোর উৎসবে অন্ধকার, মধ্যপ্রদেশে কার্বাইড গানে শতাধিক মানুষের চোখ নষ্টের আশঙ্কা।আর এবার সেই ছবি দেখা গেল দিল্লিতে। দিল্লি ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য ।এইমস-এ দীপাবলির সময় মোট ১৯০ জন রোগী চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।চিকিৎসকদের দাবি, এদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনের চোখে দীপাবলির রাতেই জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, আহতদের ৮৩ শতাংশই যুবক যাঁদের গড় বয়স ২০ বছর। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি দীপাবলির রাতেই আক্রান্ত হন। অধিকাংশই দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার বাসিন্দা।
কার্বাইড গান সাধারণত কৃষকরা ক্ষেত থেকে বাঁদর ও পাখি তাড়াতে ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্যালসিয়াম কার্বাইড, গান পাউডার ও দেশলাইয়ের উপরের অংশ দিয়ে তৈরি হয়। এর মধ্যে জল দিলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপাদন করে, যার জেরে তীব্র বিস্ফোরণ হয়। এই বিস্ফোরণের জেরে প্রচন্ড উত্তাপ তৈরি হয়, ছড়ায় বিষাক্ত গ্যাস। ভেঙে টুকরোও ছিটতে পারে চোখে-মুখে। আর তাতেই দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু রোগীর কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে গিয়েছে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে। কারও চোখে ঢুকে গিয়েছে ধাতব কণা। কারণ, ‘কার্বাইড গান’ তৈরি হয় প্লাস্টিকের পাইপে ক্যালশিয়াম কার্বাইড ও জল মিশিয়ে। এতে তৈরি হয় অ্যাসিটিলিন গ্যাস, যেটিতে আগুন ধরালে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। চিকিৎসক ট্যান্ডন জানান, বিপদ এখানেই বিস্ফোরণ হতে দেরি হলে অনেক সময় কৌতূহলী কেউ পাইপে উঁকি মারেন। সেই জমে থাকা গ্যাস ফেটে গিয়ে চোখে ভয়ানক ক্ষতি করতে পারে।
তাঁর কথায়, এই বিস্ফোরণ এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে আশেপাশে থাকা মানুষও আহত হন।এইমস সূত্রে খবর, দিল্লির ১৯০ জন রোগীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮০ থেকে ৯০ জনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, অনেকের ক্ষেত্রেই আগের মতো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বা কসমেটিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু দিল্লি নয়, পশ্চিমবঙ্গ, ভোপাল, ইন্দোর, জবলপুর, গোয়ালিয়রের বাসিন্দারাও আক্রান্ত হয়েছেন এই বিপজ্জনক ‘দেশি গান’-এর কারণে।চিকিৎসকদের আবেদন, বাজি সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করা হোক এবং ‘কার্বাইড গান’-এর মতো বিপজ্জনক ডিভাইসের বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা উৎসব আসে জীবনে আলো আনতে, অন্ধকার নয়।শহরের চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, দীপাবলিতে আতশবাজি যেমন আনন্দের, তেমনি সামান্য ভুলে সব আনন্দ মিলিয়ে যেতে পারে। তাই এসব এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।






