দেশ

Rajdhani Express: ‘ঈশ্বরের দূত’ সেনা জওয়ান! রাজধানী এক্সপ্রেসে সিপিআর দিয়ে ৮ মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচালেন সুনীল

শিশুর নাড়ি ও শ্বাস বন্ধ বুঝে সুনীল সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেন সিপিআর ।

Truth of Bengal: অসমগামী রাজধানী এক্সপ্রেসের এস-৪ কামরায় বিকেলের পর থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল আতঙ্ক। হঠাৎই এক আট মাসের শিশুর শ্বাস বন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে। মুহূর্তে চিৎকারে ফেটে পড়ে গোটা কামরা। মা নিজের সন্তানকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। যাত্রীরা কেউ জল ছিটিয়ে দিচ্ছেন, কেউ ডাকছেন, কোনও ডাক্তার আছেন কি ট্রেনে?ঠিক সেই সময় উঠে দাঁড়ান এক যাত্রী — ভারতীয় সেনার অ্যাম্বুলেন্স সহকারী সুনীল, ৪৫৬ ফিল্ড হাসপাতালের সদস্য। ছুটি শেষে ইউনিটে ফেরার পথে ছিলেন তিনি। ইউনিফর্ম না থাকলেও চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধ। নিজের পরিচয় না দিয়েই দ্রুত শিশুটির কাছে পৌঁছে যান।

শিশুর নাড়ি ও শ্বাস বন্ধ বুঝে সুনীল সঙ্গে সঙ্গে শুরু করেন সিপিআর । দুই আঙুলে বুকে চাপ, মুখে মুখ দিয়ে শ্বাস — কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই শিশুর বুক নড়ে ওঠে, ধীরে ধীরে ফিরে আসে শ্বাস-প্রশ্বাস।টানটান উত্তেজনার মধ্যে যখন শিশুটি চোখ খুলল, তখন গোটা কামরা হাততালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। কেউ বলছেন, ‘ঈশ্বরের দূত!’ কেউ শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে কেঁদে ফেলছেন আনন্দে। কিন্তু সুনীল সেখানে থামেননি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে টিটিই এবং রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রঙিয়া স্টেশনে চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যবস্থা করেন।রেল কর্তৃপক্ষ পরে জানিয়েছে, শিশুটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। শিশুর পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, ‘ওই সেনা জওয়ান না থাকলে আজ আমাদের সন্তান বাঁচত না।‘

সেনা অ্যাম্বুলেন্স সহকারী সুনীলের দ্রুত সিদ্ধান্ত, চিকিৎসা দক্ষতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত এখন ভাইরাল। যুদ্ধক্ষেত্র হোক বা সাধারণ ট্রেনযাত্রা এক সত্যিকারের সেনা সব সময় প্রস্তুত। রাজধানী এক্সপ্রেসে সিপিআর দিয়ে নবজাতকের প্রাণ ফেরানো সুনীল দেখিয়ে দিলেন, ভারতীয় সেনারা শুধু দেশের সীমানা নয়, জীবনের সীমানাও রক্ষা করেন।

Related Articles