কর্তব্যপথে ভারতের বীরত্বগাথা, সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধানমন্ত্রীর পোশাকে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া
রাজনৈতিক মহলেও মোদীর এই পোশাক নির্বাচনকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
Truth Of Bengal: ভারতের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এবারও আলোচনায় উঠে এল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোশাক। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর পরিধানে ছিল আলাদা মাত্রা। নীল কুর্তা, হালকা রঙের নেহরু জ্যাকেটের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল রঙের রাজস্থানি লেহরিয়া ধাঁচের পাগড়ি নজর কাড়ে দর্শকদের। লাল রঙের উপর সোনালি নকশার এই পাগড়িকে পশ্চিম ভারতের সংস্কৃতিতে সুখ ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক মহলেও মোদীর এই পোশাক নির্বাচনকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর পাগড়ি কেবল ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পাগড়ির রঙ, বাঁধন ও নকশায় রয়েছে স্বতন্ত্র ঐতিহ্য। সেই বহুত্বের মধ্যেই মোদীর পাগড়ি এক ধরনের জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে, যা সাধারণতন্ত্র দিবসের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মাত্রা যোগ করে।
এই ধারার সূচনা হয়েছিল ২০১৪ সালে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময়। তারপর থেকে প্রতি বছরই তাঁর পোশাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ছাপ দেখা যায়। কখনও গুজরাতি, কখনও রাজস্থানি কিংবা উত্তর ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ— প্রতিটি পাগড়িই যেন ভারতের বহুবর্ণ সংস্কৃতির প্রতিফলন।
এবছর সাধারণতন্ত্র দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী যান কর্তব্যপথে, যেখানে কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবছরের সাধারণতন্ত্র দিবসের থিম রাখা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে।
উল্লেখ্য, ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৭৫ সালে। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর এই গানের দেড়শো বছর পূর্ণ হওয়ায় কেন্দ্র সরকার এক বছরব্যাপী স্মরণোৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার সূচনা হয়েছে এবারের সাধারণতন্ত্র দিবস থেকেই।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর পোশাক যেন শুধুই আনুষ্ঠানিক সাজ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত একটি সাংস্কৃতিক বার্তা। সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁর পাগড়ি ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও সামনে এনে দেয়।




