
The Truth of Bengal, Mou Basu: শুধু সুস্বাদুই নয় অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর গুরজাউলি মাছ। গুরজাউলি মাছকে বলা হয় ইন্ডিয়ান স্যালমন বা রাওয়াস। হার্টের জন্য দারুণ উপকারী এই গুরজাউলি মাছ। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী বলা হয়। গুরজাউলি মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। তাই গুরজাউলি মাছ স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও ভিটামিন এ, ডি ও সেলেনিয়াম নামক খনিজ পদার্থ থাকে বলে গুরজাউলি মাছ স্নায়ুতন্ত্রকেও সুরক্ষিত রাখে। মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ কমাতেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
প্রতি ১০০ গ্রাম গুরজাউলি মাছে ২২-২৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ওমেগা ৩ ও ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড মেলে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে বলে এই মাছ সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্যই দারুণ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে অস্টিওপরোসিসের মতো হাড় ক্ষয়ের রোগকে ঠেকানো যায়। হাড়ও মজবুত থাকে। গুরজাউলি মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে বলে এই মাছ হাড়ের স্বাস্থ্যর জন্য দারুণ উপকারী।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় গুরজাউলি মাছ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্নায়ুর রোগ হয় কিন্তু গুরজাউলি মাছে ভিটামিন এ, ডি, সেলেনিয়াম থাকায় তা যেমন স্নায়ুর রোগ প্রতিরোধ করে তেমনই মানসিক অবসাদও কমায়।
আথেরোস্কেলোরোসিস, হাইপারটেনশনে, স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায় গুরজাউলি মাছ। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। ক্যানসার সৃষ্টিকারী টিউমার ধ্বংস করে এই মাছ।
প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় গুরজাউলি মাছ ত্বকের জন্য দারুণ উপকারী। এই মাছ নিয়মিত খেলে উজ্জ্বল, ঝকঝকে ত্বক মেলে। ত্বকের অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী ফ্রি র্যাডিকেলস কমায়।
ওজন কমাতে সাহায্য করে গুরজাউলি মাছ। এই মাছ খেলে মেটাবলিক রেট বাড়ে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এই প্রোটিন সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া অবশ্যই দরকার। এই মাছে প্রচুর পরিমাণে সহজ প্রাচ্য প্রোটিন মেলে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা সদ্য প্রসূতি মায়েরা এই মাছ খেলে তাঁদের সন্তানদের মনে রাখার ক্ষমতা আরো তীক্ষ্ণ হয়।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জয়েন্ট পেইন ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। প্রাকৃতিক ভাবে স্কিন টোনারের কাজ করে এই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।


