স্বাস্থ্য

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমে হার্টের উপর বড়সড় প্রভাব

স্ক্রিনটাইমের প্রভাব শুধু ঘাড় বা চোখে নয়, এর গভীর প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের উপরও।

Truth Of Bengal: দিনের প্রতিটি মুহূর্তেই জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন এবং অন্যান্য গ্যাজেট। একদিকে যেমন বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়া বা সিরিজ দেখে বিনোদনের জোগান—সবই এখন হাতের মুঠোয়। যদিও মনে হয় এইসব ডিভাইস জীবনের অনেক কিছু সহজ করেছে, বাস্তবে এগুলিই ধীরে ধীরে জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে, এমনকি প্রভাব ফেলছে আয়ুষ্কালের উপরও।(Screen Time)

এই প্রসঙ্গে ঠাণের হরিজন প্রাইম হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুহেল ধানসে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিন দেখার ফলে শরীরে একাধিক অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। তিনি বলেন, “প্রলম্বিত স্ক্রিনটাইম মানেই লম্বা সময় বসে থাকা, খারাপ ভঙ্গিতে বসা, রাতে দেরি করে ফোন ব্যবহার, এমনকি অবচেতনে স্ন্যাকস খাওয়া, এই সব মিলেই বাড়ায় কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক।”

আরও পড়ুনঃ ম্যাচে ছিলাম কুলদীপ-বরুণের মাঝের ওভারগুলির আগে, পরাজয়ের কারণ জানালেন আসালঙ্কা

অনেক সময় আমরা ক্লান্তি বা মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক ভাবি, কিন্তু ডা. ধানসের মতে, এগুলি হতে পারে দীর্ঘ স্ক্রিন ব্যবহারের প্রাথমিক সতর্কবার্তা। তিনি জানান, “অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঘুমের অভাব, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া এবং অজানা উদ্বেগ—এসবই হতে পারে স্ক্রিনটাইমের প্রতিক্রিয়া। এর পাশাপাশি রাতের বেলায় নীল আলো (ব্লু লাইট) শরীরের ঘড়িকে (বডি ক্লক) ব্যাহত করে, যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়, ওজন বাড়ে এবং ডায়াবেটিস আরও খারাপ হয়—সবই হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।”(Screen Time)

স্ক্রিনটাইমের প্রভাব শুধু ঘাড় বা চোখে নয়, এর গভীর প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের উপরও। দীর্ঘ সময় অক্রিয় অবস্থায় থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, যার ফলে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসের (DVT) সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং স্থূলতার মতো রোগও ধীরে ধীরে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ঘুমের অভাব হৃদস্পন্দনে অনিয়ম তৈরি করতে পারে, বিশেষত যাঁরা এমন সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল।(Screen Time)

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal/

ডা. ধানসে জানান, বিভিন্ন গবেষণা বলছে—যাঁরা প্রতিদিন ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাঁদের মেটাবলিক সিনড্রোম হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে, যা সরাসরি করোনারি আর্টারি ডিজিজ এর ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে আতঙ্কিত না হয়ে এখনই সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। তিনি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বলেন, “প্রতি ৩০-৪০ মিনিটে একবার উঠে দাঁড়ান, স্ট্রেচ করুন, হাঁটুন। রাতে শোবার আগে অবসর স্ক্রিন টাইম কমান, যেন ঘুমের ব্যাঘাত না হয়। প্রতিদিন বাইরে হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাবার খান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান।”

সারসংক্ষেপে, ভালো হৃদযন্ত্রের জন্য চাই গতি, বিশ্রাম আর ভারসাম্য—এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ধানসে। প্রযুক্তির সঙ্গে থাকার পাশাপাশি, সময়মতো তার থেকে দূরে সরে যাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।