স্বাস্থ্য

Screen Time: আপনার সন্তানের ‘স্ক্রিন টাইম’ কত? খেয়াল রেখেছেন? এখনই সতর্ক হন

A new AIIMS Raipur study warns Indian parents about excessive screen time causing language delays.

Truth Of Bengal: আপনার সন্তান প্রতিদিন কতটা সময় মোবাইল ফোন, টিভি স্ক্রিন এবং কম্পিউটারের সামনে কাটাচ্ছে (Screen Time)? খেয়াল রেখেছেন? অতিরিক্ত স্ক্রিনিং-এ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আপনার সন্তান? কখনও ভেবেছেন সে বিষয়ে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর দাবি।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি আপনার সন্তান প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় মোবাইল ফোন, টিভি স্ক্রিন এবং কম্পিউটারের সামনে কাটায় তাহলে এটি নির্ধারিত সময়সীমার দ্বিগুণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুরাও গড়ে ১.২ ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে, কিন্তু সেই বয়সে স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেওয়ায় উচিত নয়।

এটা খুব ছোটবেলা থেকেই শুরু হয়। বর্তমানে অনেক বাবা-মা শিশুকে শান্ত করার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। কান্না থামাতে শিশুদের, এমনকি নবজাতকদের হাতেও মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া এখন আর অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই ইউটিউব বা অন্যান্য অ্যাপে লালাবাই ও নার্সারি রাইম চালিয়ে রাখেন যাতে সন্তান ব্যস্ত ও শান্ত থাকে, আর সেই ফাঁকে তাঁরা নিজেদের কাজ সারতে পারেন। কিন্তু এর প্রভাব শিশুর উপর নেতিবাচক হচ্ছে।

এই নতুন গবেষণাটি করেছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS), রায়পুর। গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা প্রতিদিন গড়ে ২.২ ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। এই সময়সীমা সুপারিশকৃত মাত্রার দ্বিগুণ। গবেষক আশীষ খোবরাগাড়ে ও এম স্বাথি শেনয় এই তথ্য তুলে ধরেছেন (Screen Time)।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন এক্সপোজার শিশুর ভাষাগত বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাদের মানসিক দক্ষতা কমিয়ে দেয়। এছাড়াও, খারাপ সামাজিক দক্ষতা, স্থূলতা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মনোযোগের ঘাটতির মতো একাধিক সমস্যার সঙ্গে স্ক্রিন টাইমের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি ২,৮৫৭ জন শিশুর উপর ভিত্তি করে ১০টি সমীক্ষার মেটা-অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে করা হয়েছে।

গবেষণায় প্রস্তাবিত হয়েছে যে বাড়িতে ‘টেক-ফ্রি জোন’ তৈরি করা উচিত। শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইমের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া দরকার। এছাড়াও বলা হয়েছে, শিশুদের আরও বেশি অফলাইন সংযোগ বা খেলাধুলা ও পারিবারিক সময় কাটানো উচিত।

ফেলিক্স হাসপাতালের ডা. ডি কে গুপ্ত টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে জানিয়েছেন যে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ সুপারিশকৃত সীমার চেয়ে বেশি সময় স্ক্রিনে কাটাচ্ছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর “গুরুতর শারীরিক ও আচরণগত সমস্যা” সৃষ্টি করতে পারে (Screen Time)।

মূল সমস্যা হল, বর্তমানের বাবা-মায়েরাও নিজেরা প্রচুর সময় স্ক্রিনে কাটান, সেটা কাজের জন্য হোক বা বিনোদনের জন্য। তাই শিশুর মোবাইলের প্রতি আকৃষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। একবার নেশা তৈরি হলে তা থেকে ছাড়ানো কঠিন। ডা. গুপ্ত জানান, বাবা-মায়েদের উচিত নিজেই প্রথমে নিজের স্ক্রিন টাইম কমানো এবং একটি ভালো উদাহরণ তৈরি করা।

উত্তর ভারতের গাজিয়াবাদে একজন চিফ মেডিক্যাল অফিসার একটি পরামর্শ জারি করেছেন, যেখানে তিনি বাবা-মায়েদের শিশুদের বাইরের খেলা ও সামাজিক ক্রিয়াকলাপে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, “আমি ১০-১২ বছর বয়সী শিশুদেরও পাই, যারা স্ক্রিন ব্যবহার কমালে অস্থিরতা অনুভব করে এবং কখনও কখনও আক্রমণাত্মক আচরণও করে।”

Related Articles