গণনার দিনেই অশান্ত বাংলা! মমতা ও অভিষেকের বাড়ির বাইরে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী
ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তাল! বুথের ভেতরেই আক্রান্ত তৃণমূল প্রার্থীরা, কমিশনের কড়া নির্দেশ
Truth of Bengal: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক উলটপুরাণ! ভোট গণনার ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপি বর্তমানে ১৯১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ৯৭টি আসন। বাম জোট ৩ এবং অন্যান্যরা ২টিতে এগিয়ে। এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে যেমন একদিকে বিজেপির বিজয়োৎসব শুরু হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে একাধিক জায়গা থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার খবর সামনে আসছে।
এই অশান্তির আঁচ থেকে বাদ যায়নি আসানসোল। কাউন্টিং হলের বাইরে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের আকার নিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাজেহাল পুলিশ প্রশাসন। এছাড়া বুথের মধ্যেই নোয়াপাড়া এবং বীজপুরের তৃণমূল প্রার্থীরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসককে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অশান্তি এবং সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে আধা সামরিক বাহিনী বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই এলাকাগুলিতে এমনিতেই পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকে, তবুও গণনার দিনের উত্তাপ এবং অশান্তির আবহে নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
এদিকে, রাজ্যজুড়ে বিজেপির গেরুয়া আবির খেলা আর লাড্ডু বিতরণের ছবির পাশে এই হিংসার ঘটনাগুলি সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রগুলির বাইরে বিজয়োল্লাসে মেতেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালেই কোথাও আবার তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া বা প্রার্থীর ওপর আক্রমণের মতো ঘটনা গণতন্ত্রের উৎসবকে কলঙ্কিত করছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, গণনার দিন এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা পরিবর্তনের এই মুহূর্তে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই বর্তমান প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।





